WB Assembly Elections 2026

কোন্দল-কাঁটায় ভোটের ফসল উঠবে কার ঘরে

রাজ্যে পালা বদল হয়েছে ২০১১ সালে। তার পরের পনেরো বছরে শুধুমাত্র ২০১৬ সালে আলিপুরদুয়ার আসনে জয়ী হয় তৃণমূল।

পার্থ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩৬
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এ বারে বিধানসভা নির্বাচনে শাসক দলের টিকিট পেয়েছেন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসা আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। তাতে আলিপুরদুয়ারে তৃণমূলের আদি নেতারা প্রকাশ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ না দেখালেও সমাজমাধ্যমে তা স্পষ্ট মালুম হয়েছে। সম্প্রতি পুরসভার হলঘরে (প্রেক্ষাগৃহ) তৃণমূলের প্রস্তুতি বৈঠক হয়। তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি প্রকাশ চিক বড়াইক দলের ঘোষিত প্রার্থী সুমনকে জেতানোর স্লোগান দিতে প্রত্যেকে তা সমর্থন করে মুষ্টিবদ্ধ হাত তোলেন। দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে, সুমনের সমর্থনে যাঁরা হাত তুলেছেন, তাঁকে জেতাতে তাঁরা প্রয়োজনীয় লড়াই করবেন তো? স্বস্তিতে নেই বিজেপিও। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় আলিপুরদুয়ারে জেলা দফতর ভাঙচুরও হয়েছে।

রাজ্যে পালা বদল হয়েছে ২০১১ সালে। তার পরের পনেরো বছরে শুধুমাত্র ২০১৬ সালে আলিপুরদুয়ার আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। সেই সময়ে তৃণমূলের বিধায়ক হয়েছিলেন সৌরভ চক্রবর্তী। ২০২১ সালে সেই সৌরভকেই ফের প্রার্থী করে তৃণমূল। তবে প্রথমবারেই বিজেপির প্রার্থী হয়ে সুমন সৌরভকে পরাজিত করে। সূত্রের খবর, ওই নির্বাচনে প্রার্থী না-হতে পেরে দলের একাধিক নেতা সৌরভের বিরুদ্ধে ছিলেন। যার খেসারত দিতে হয়েছিল আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন ওই বিধায়ককে। এখন তাঁরা সুমনের হয়ে কতটা লড়বেন তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের অন্দরে সৌরভের বিরুদ্ধে যাঁদের লড়াই ছিল, সৌরভ-সহ তাঁদের কেউই টিকিট পাননি। তাই দলবদলু সুমন আলিপুরদুয়ারে সব নেতার সমর্থন পাবেন কি না সেই চর্চা জোরালো হচ্ছে তৃণমূলের অন্দরে।

এ দিকে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার আসনে পরিতোষ দাসকে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপিও খুব একটা স্বস্তিতে নেই। গেরুয়া শিবির পরিতোষকে আলিপুরদুয়ারের প্রার্থী ঘোষণা করতে বিজেপির জেলা দফতরে ভাঙচুর হয়। ঝোলে তালাও।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা নিজে ময়দানে নেমেছেন ঠিকই, তবে পরিতোষের সমর্থনে দলের পরিচিত বেশির ভাগ নেতাকে সেই অর্থে প্রচারে নামতে দেখা যাচ্ছে না। যদিও টিগ্গা দাবি করেছেন, পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মীই প্রার্থীর হয়ে ময়দানে নামবেন। একই ভাবে তৃণমূলের প্রকাশ চিক বড়াইকের দাবি, ঐক্যবদ্ধ ভাবে দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মী তৃণমূলের ঘোষিত প্রার্থীর হয়ে ময়দানে কাজ করবেন।দুই শিবিরে প্রার্থী নিয়ে চলা কোন্দলে শেষ পর্যন্ত কে শেষ হাসি হাসে, সে দিকে তাকিয়ে সব মহল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন