পরিধান: সতর্ক করে নিজেরাই পথচারীদের মাস্ক পরাচ্ছেন তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়। পাশে মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। নিজস্ব চিত্র
বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার কোচবিহারে নতুন করে আরও ২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে কোচবিহার সদর মহকুমায় সংক্রমণ ছড়াচ্ছে দ্রুত গতিতে। আলিপুরদুয়ারেও একই অবস্থা। তার পরেও বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকেও। মাস্কও পরছেন না।
এ দিন মাস্ক হাতে পথে নামেন কোচবিহার জেলার মন্ত্রী-আমলারা। পথচলতি মানুষকে মাস্ক পরিয়েও দেন তাঁরা। পুলিশের একটি অনুষ্ঠানের পরে ওই কর্মসূচি হয়। সেখানে জেলার দুই মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ, বিধায়ক মিহির গোস্বামী, প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় এবং জেলাশাসক পবন কাদিয়ান, পুলিশ সুপার সন্তোষ নিম্বালকর ছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ বলেন, “সবাইকে সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। প্রশাসন-পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর কাজ করছে। তাদের যা নির্দেশিকা সবাইকে মেনে চলতে হবে।” কোচবিহারে এ দিন ২০ জন আক্রান্তের মধ্যে ১১ জন সদর মহকুমার, ৬ জন মাথাভাঙার এবং ৩ জন দিনহাটার। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “ধারাবাহিক প্রচারে পরেও অনেকে তা মানতে চাইছেন না। বহু জায়গাতেই ভিড় হচ্ছে। এমন হলে সংক্রমণ আরও ছড়াবে।
এদিকে, দলের অন্দরে করোনা থাবা বসাতেই আলিপুরদুয়ারে তৃণমূলের নেতাদের লালারসের নমুনা পরীক্ষার হিড়িক পড়েছে। অভিযোগ, সকালে পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েই ওই নেতাদের একাংশ ভিড়ে ঠাসা কর্মসূচিতে দলের মধ্যেই তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দু’দিন আগে আলিপুরদুয়ার তৃণমূলের এক জেলা নেতা করোনায় আক্রান্ত হন। তৃণমূল সূত্রের খবর, সম্প্রতি ওই নেতা দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। রবিবারই দলের জেলা পার্টি অফিস বন্ধ করে দেন আলিপুরদুয়ারের শীর্ষ নেতারা। আক্রান্ত ওই নেতার সংস্পর্শে আসা প্রায় ৩০ জন নেতা এ দিন তাঁদের লালারসের নমুনা দেন। যাঁদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামীও। অভিযোগ, নমুনা দিয়েই মৃদুল ও দলের ওই নেতাদের একাংশ ফালাকাটায় দলের কর্মসূচিতে চলে যান। গত তিন দিন ধরে ফালাকাটার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিটি বুথ ধরে পর্যালোচনা বৈঠক চলছে। প্রতিদিনই যে কর্মসূচিগুলোতে প্রচুর ভিড় হচ্ছে। যার ব্যাতিক্রম হয়নি এ দিনও। ফলে স্বাভাবিক ভাবে লালারসের নমুনা দিয়ে কেন নেতারা এ ধরনের কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল বলেন, “ভিড়ে ঠাসা নয়, বরং বাছাই করা নেতাদের উপস্থিতিতেই এ দিনের বৈঠক হয়েছে। সকলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তাছাড়া আগেই থেকেই এই বৈঠকগুলোর দিনক্ষণ ঠিক ছিল। তাই এই বৈঠকগুলোর শেষ হয়ে গেলে আপাতত এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধ থাকবে।’’
বিজেপির কোচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতী রাভা বলেন, “রাজ্যের শাসক দলের নেতারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। নিজেরা সচেতন হওয়ার কথা বলছেন, অথচ তাঁরাই সচেতন নন।”