আলিপুরদুয়ারের সিএমওএইচ গিরীশচন্দ্র বেরা
জেলার নতুন সিএমওএইচ হিসাবে সোমবার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন গিরীশচন্দ্র বেরা। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে আলিপুরদুয়ারে এসে আগে করোনা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হল তাঁকে। তবে আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, দায়িত্বভার গ্রহণের আগে নিজেই নিজের করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন নতুন সিএমওএইচ। রবিবার জেলা হাসপাতালে তাঁর লালারসের নমুনার পরীক্ষা হয়। রাতে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। সোমবার কাজে যোগ দেন তিনি।
অসুস্থ মা-বাবার কাছে থাকতে করোনা আবহের মধ্যেই দিন কয়েক আগে স্বেচ্ছাবসরের আবেদন করেছিলেন আলিপুরদুয়ারের তৎকালীন সিএমওএইচ পূরণ শর্মা। কিন্তু সেই আবেদনের একদিনের মাথায় তাঁকে কলকাতার পাস্তুর ইনস্টিটিউটে বদলির নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য দফতর। পশ্চিম মেদিনীপুরের সিএমওএইচ গিরীশচন্দ্র বেরাকে আলিপুরদুয়ারের সিএমওএইচ করা হয়। কিন্তু পূরণের বদলির সিদ্ধান্তে বিভিন্ন মহলে হইচই শুরু হয়। কিন্তু সরকারি নির্দেশ পাওয়ার পরেই ডেপুটি সিএমওএইচ ১ কৌশিক চৌধুরীকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে আলিপুরদুয়ার ছাড়েন পূরণ।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় থেকেই আলিপুরদুয়ারের অস্থায়ী সিএমওএইচের দায়িত্ব সামলে আসছিলেন কৌশিক। এরইমধ্যে গত শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে আলিপুরদুয়ারে পৌঁছন নতুন সিএমওএইচ গিরীশ। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, এতদিন ধরে বাইরে থেকে যাঁরা আসছিলেন তাঁদের করোনা পরীক্ষা করাচ্ছিলেন স্বাস্থ্যকর্তারা। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে আলিপুরদুয়ারে আসা নতুন সিএমওএইচের ক্ষেত্রে কী হবে তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন কেউ কেউ। তবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে নতুন সিএমওএইচ নিজেই করোনা পরীক্ষা করাতে চান।
এ দিন নিজের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরে সিএমওএইচ বলেন, ‘‘আমি যে জেলা থেকে এসেছি সেটা রেড জ়োনের মধ্যে পড়ে। সরাসরি কোন করোনা রোগীর সংস্পর্শে না এলেও সিএমওএইচ হিসাবে ওই জেলাতে কোভিড হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে আমায় যেতে হয়েছে। তাই নতুন একটা জায়গায় কাজে যোগ দেওয়ার আগে আমার নিজের পরীক্ষা করানোটাও জরুির ছিল। তাই এই সিদ্ধান্ত।’’ কাজে যোগ দেওয়ার আগেই নতুন সিএমওএইচের এই ভূমিকায় আলিপুরদুয়ার জেলার স্বাস্থ্যকর্তা থেকে শুরু করে চিকিৎসকদের সবাই খুশি।