ফের সঙ্ঘবদ্ধ কেএলও! প্রশ্ন

রাজ্য পুলিশের উত্তরবঙ্গের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘রাজ্য থেকে কেএলও-র প্রভাব প্রায় নেই ঠিকই, কিন্তু অসমে পুরোপুরি সক্রিয়। এ বার সেখান থেকেই নতুন করে উত্তরবঙ্গের যুবকদের উস্কানির চেষ্টা চলছে। মালদহের কয়েকটি নাম মিলেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অসম পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’’

Advertisement

কৌশিক চৌধুরী

শিলিগুড়ি শেষ আপডেট: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৩:০৩
Share:

প্রতীকী ছবি।

পাশের একটি দেশের মাটিতে ফের কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (কেএলও) সদস্যরা নতুন করে সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement

গত ২৭ অক্টোবর কোকরাঝাড়ের বান্দেরচেরা থেকে মনফুল বর্মণ নামে কেএলও-র ২০ নম্বর ব্যাচের এক সদস্যকে গ্রেফতার করে অসমের পুলিশের বিশেষ টাক্স ফোর্স। পার্শ্ববর্তী একটি দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মনফুল তোলাবাজির চেষ্টা করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়। তাকে জেরা করেই অসম পুলিশ পার্শ্ববর্তী দু’টি দেশে কেএলও-র নতুন ঘাঁটি সম্পর্কে জানতে পারে। যেখানে নতুন কেএলও সদস্যরা পৌঁছেছে। সম্প্রতি সেই তথ্য কেন্দ্র, রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলির হাতে এসেছে। গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, ওই ঘাঁটিতে অসমের ২৫ জন মতো যুবক আছেন। মালদহের ৪-৫ জন যুবক সেখানে গিয়েছেন বলেও তাঁরা খবর পেয়েছেন। ওই দেশেই কেএলও সাধারণ সম্পাদক কৈলাস কোচ রয়েছেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে খবর। তবে পার্শ্ববর্তী দেশটির সরকার কেএলও-র এই সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলেই খবর।

রাজ্য পুলিশের উত্তরবঙ্গের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘রাজ্য থেকে কেএলও-র প্রভাব প্রায় নেই ঠিকই, কিন্তু অসমে পুরোপুরি সক্রিয়। এ বার সেখান থেকেই নতুন করে উত্তরবঙ্গের যুবকদের উস্কানির চেষ্টা চলছে। মালদহের কয়েকটি নাম মিলেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অসম পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’’

Advertisement

গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে দিল্লির নর্থ ব্লকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে রাজ্যকে একটি সর্তকবার্তা পাঠানো হয়েছিল। তাতে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, ২০১২-১৩ সালের পরে ঝিমিয়ে পড়া কেএলও নতুন ভাবে সংগঠন গড়ার চেষ্টা শুরু করেছে। এর জন্য, আলফা, নাগা জঙ্গি, এনএসসিএন, এনবিএফবি, এনএসসিএন (খাপলং) গোষ্ঠীর তৈরি ইউনাইটেড ফ্রন্টে সামিল হয়েছে কেএলও। তার পরেই পুলিশ এবং এজেন্সিগুলি নড়েচড়ে বসে। তার পরেই অসম পুলিশের নতুন তথ্যে উদ্বিগ্ন অফিসারেরা।

তাঁরা জানাচ্ছেন, ২০০৩ সালে ভুটানের অপারেশন ফ্লাসআউটের পরে নেপালে উত্তর পূর্বাঞ্চলের গোষ্ঠীরগুলির মদতে কেএলও-র কয়েক জন ঘাঁটি গেড়েছিল। পরে সেখান থেকে জীবন সিংহের নেতৃত্বে অনেকেই উত্তর পূর্বের একটি দেশে শিবির করে রয়েছে। এর মাঝে কয়েক বছর ভুটানের চুখা’র ওয়াংচু নদীর ধারে পাহাড়ি জঙ্গল এলাকায় কেএলও গতিবিধি জানা গিয়েছিল। সেই দিকে নজর পড়তেই আবার চোরাপথে পাশের একটি দেশে ঢুকেছে এক দল জঙ্গি।

তবে নতুন করে সংগঠন হওয়ার চেষ্টা মানেই ফান্ড বা তহবিলও দরকার। ব্যবসায়ীদের থেকে হুমকি দিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা হয়। মনফুলও সেই চেষ্টা করছিল। তাই রাজ্য পুলিশকেও এখন থেকে সর্তক থাকার কথা বলা হয়েছে।

১৯৯৫ সালের অগস্ট মাসে আলাদা রাষ্ট্রের কথা বলে আলফার সাহায্যে জীবন সিংহ কেএলও গড়ে তোলেন। পরের দুই দশক খুন, ট্রেন থেকে টাকা লুঠ, অস্ত্র কারবার, শাসক দলের অফিসে হামলায় নাম জড়ায় কেএলও। অন্তত ১০০ জন গ্রেফতার হন। জীবন, কৈলাসদের মতো সামান্য কয়েক জন ছাড়া বাকিরা সবাই গ্রেফতার হয়েছেন।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন