সুজয়ের ইস্তফা ঘিরে নয়া সমীকরণের চর্চা

Sujoy ed practices surrounding the বাম বোর্ডের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরীকে ইতিমধ্যেই পাশে পেয়েছেন শিলিগুড়ি পুরসভায় কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা সুজয় ঘটক। বৃহস্পতিবার রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি গৌতম দেবও স্বাগত জানালেন কংগ্রেস নেতার পদক্ষেপকে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০১৭ ০১:৩৮
Share:

বাম বোর্ডের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরীকে ইতিমধ্যেই পাশে পেয়েছেন শিলিগুড়ি পুরসভায় কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা সুজয় ঘটক। বৃহস্পতিবার রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি গৌতম দেবও স্বাগত জানালেন কংগ্রেস নেতার পদক্ষেপকে।

Advertisement

কংগ্রেসের প্রতি বাম বোর্ডের বঞ্চনার অভিযোগে গত সোমবার পুরসভার ৩ নম্বর বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করার ইচ্ছে প্রকাশ করে মেয়রকে চিঠি দিয়েছিলেন সুজয়বাবু। তাঁর এই পদক্ষেপকে অধীরবাবু সমর্থন করায় এবং গৌতমবাবু ‘স্বাগত’ জানানোয় পুরবোর্ডের ভবিষ্যত সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। অন্যদিকে, এ দিনই পুরসভার মেয়র অশোক ভট্টাচার্য চিঠি লিখে সুজয়বাবুকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আর্জি জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুতে শিলিগুড়িতে পুরবোর্ড ঘিরে চলছে জোর চর্চা।

তাপস পাল ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দুই তৃণমূল সাংসদকে সিবিআই গ্রেফতার করায় সরব হয়েছে কংগ্রেস। সেই প্রসঙ্গে এ দিন হিলকার্ট রোডে তৃণমূলের অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে গৌতমবাবু বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব শিলিগুড়িতে পড়তেই পারে। বাম বোর্ডকে সরাতে কেউ যদি আন্তরিক ভাবে লড়াই করে তবে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা তো একাই লড়াই চালাচ্ছি।’’ সুজয়বাবু সরাসরি মন্তব্য করেননি। তাঁর কথায়, ‘‘অন্যায় দেখলে কংগ্রেস চিরকাল লড়াই করেছে।’’

Advertisement

পুরবোর্ডের একক গরিষ্ঠতা প্রমাণের ম্যাজিক সংখ্যা ২৪ এর থেকে বামেদের কাউন্সিলর সংখ্যা দু’জন কম। বামেদের বর্তমান সদস্য ২২ জন তৃণমূলে কাউন্সিলর সংখ্যা ১৮ এবং কংগ্রেসের ৪। কংগ্রেস এবং তৃণমূল দু’দলের কাউন্সিলরের মিলিত সংখ্যা ২২ জন। একটি ওয়ার্ডে উপনির্বাচন হবে। তৃণমূলের দাবি ওই আসন তাদের ঝুলিতে গেলে পুরবোর্ডের দখল নেওয়ার সংখ্যা জোগাড়ে সমস্যা হবে না। মেয়র অশোকবাবু অবশ্য গৌতমবাবুর দাবিকে কষ্ট কল্পনা বলে দাবি করেছেন। তবে দ্রুত পরিস্থিতি বদলাতে থাকায় নিশ্চিন্ত নন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অশোকবাবুও। তাঁর মন্তব্য, ‘‘কংগ্রেসকে নিয়েও তৃণমূল বোর্ড গড়তে পারবে না। ওদের তখন বিজেপির সমর্থন নিতে হবে। সেটা ওঁরা নেবে কি না আগে জানাক।’’ অশোকবাবুর দাবি জানিয়েছেন, এ দিনই অধীর চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। কংগ্রেসের সমর্থন অটুট।

বাম বোর্ডের বিরুদ্ধে সরব হওয়া নিয়ে জেলা কংগ্রেসের অন্দরের মতবিরোধও প্রকাশ্যে এসেছিল। সুজয়বাবুর পদত্যাগকে ব্যক্তিগত এবং নাটক বলে দাবি করেছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি (সমতল) সভাপতি তথা মাটিগাড়ার বিধায়ক শঙ্কর মালাকার। তাকে কটাক্ষ করে এ দিন গৌতমবাবু বলেন, ‘‘এখনও জেলা কংগ্রেস সভাপতি বামেদের সমর্থন নিয়ে বিধায়ক হয়ে রয়েছেন।’’ শঙ্করবাবুর মন্তব্য, ‘‘আমাদের দলের বিষয়ে মাথা ঘামানোর অধিকার কারও নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement