Union Budget 2026

বাজেটে আরও কিছু প্রাপ্য ছিল উত্তরবঙ্গের

বাজেটে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, পাঠ্যবইয়ে লেখার মতো কিছু কথা। কিন্তু সে সব কোথায়, কী ভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়।

কণককান্তি বাগচী

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১১
Share:

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

বাজেটে যেটুকু শুনলাম, তাতে এই রাজ্য তথা উত্তরবঙ্গের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক কিছু দেখছি না। কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চলে এমস হাসপাতাল গড়তে আগ্রহী— এমন নানা কিছু শোনা গিয়েছিল। কিন্তু বাজেটে তা দেখা গেল না। যোগাযোগের জন্য ‘হাইস্পিড ট্রেন করিডরের’ মধ্যে একটি শিলিগুড়িতে রয়েছে। প্রাপ্তি বলতে দেখছি এটাই।

কিন্তু আরও অনেক বিষয় ছিল, উত্তরবঙ্গের জন্য যেগুলি ভাবা যেতে পারত। এমনকী কেন্দ্রের নেতা-মন্ত্রীরাও এখানকার সে সব উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাই মানুষেরও প্রত্যাশা বাড়তে থাকে। এই এলাকায় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দিনের দাবি। কৃষিজাত পণ্যের উপরে নির্ভর করে শিল্পের কথাও ভাবা যেতে পারত। ভৌগোলিক দিক থেকে উত্তরবঙ্গে নির্দিষ্ট শিল্পবিকাশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা, শিলিগুড়িতে তথ্যপ্রযুক্তির প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজেটে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, পাঠ্যবইয়ে লেখার মতো কিছু কথা। কিন্তু সে সব কোথায়, কী ভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়। দেশ জুড়ে জেলাগুলিতে ছাত্রীনিবাস, জেলা হাসপাতালে ট্রমা সেন্টারের কথা বলা হয়েছে। এ সব কোথায়, কতটা হবে, তাতে অস্পষ্টতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের মতো এলাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জরুরি। এই এলাকায় ‘চিকেনস নেক’ নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বাজেটে তা নিয়ে কোনও উল্লেখ নেই। অবশ্যই উল্লেখ থাকার কথা ছিল।

চা বাগান এবং পর্যটন এখানকার অন্যতম বিষয়। বাজেটে চা বাগান নিয়ে কিছুই পেলাম না। চা শিল্পকে চাঙা করার মতো পরিকল্পনা জরুরি। এখানকার শ্রমিকদের সমস্যা মেটানো জরুরি। শ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছেন। পরিস্থিতি এমন হওয়া দরকার যে নতুন প্রজন্ম শিল্প-কৃষি থেকে সব ক্ষেত্রে কাজ করতে উৎসাহী হবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন উল্টো।

আবার কিছু রাজনৈতিক বিষয়ও থাকে। কেন্দ্র-রাজ্যের সম্পর্কের বিষয় থাকে। রাজ্য যদি কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ না করে, সে ক্ষেত্রে এই এলাকার মানুষেরা বঞ্চিত হবেন। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক জেদাজেদির জেরেও কাজ হচ্ছে না। সেটাও যাতে না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখা দরকার। উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্বদিচ্ছাও থাকা দরকার। কেউ যদি ভাবেন, ক্ষমতায় না এলে তাঁরা উন্নয়ন করবেন না, সেটা ঠিক নয়। এ সবের উর্ধ্বে উঠে মানুষের কথা ভেবে কাজ করা দরকার।

(অর্থনীতির প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন