শিলিগুড়িকাণ্ডের প্রতিবাদে ধর্নায় বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। —নিজস্ব ছবি।
বিক্ষোভ, অবরোধ, ধর্না শুরুর পর ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। এখনও শিলিগুড়ি শহরের নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অধরা। তবে তাঁর মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিচারের দাবিতে শিলিগুড়িতে অম্বেডকরের মূর্তির পাদদেশে ধর্নায় অনড় বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনি জানান, অপরাধী গ্রেফতার না-হওয়া পর্যন্ত ধর্নামঞ্চেই থাকছেন। নিজের নির্বাচনী প্রচার বন্ধই থাকবে। তৃণমূলের কটাক্ষ, ছাত্রীমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রাজনীতিই করছেন বিধায়ক। তাঁর ধর্নাও প্রচারের একটি কৌশল। অন্য দিকে, রামনবমীর আগে অপরাধীকে গ্রেফতার না-করা গেলে শহরে বন্ধের ডাক দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ্বহিন্দু পরিষদ।
শিলিগুড়ির ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় সোমবার। পরিবারের অভিযোগ, ছাত্রীকে বার বার প্রেমের প্রস্তাব দিতেন গৃহশিক্ষক। ওই গৃহশিক্ষক বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। তাঁর প্রস্তাবে রাজি না-হওয়ায় ছাত্রীকে তিনি মানসিক অত্যাচার করেছেন। তার পরেই মেয়েটি আত্মঘাতী হয়। ছাত্রীর মৃত্যুর খবর ছড়াতেই ওই গৃহশিক্ষকের খোঁজ মিলছে না। এই নিয়ে মঙ্গলবার দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। বিচারের দাবিতে ধর্নায় বসেন শিলিগুড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর। বুধবার ধর্নামঞ্চ থেকে শঙ্কর শহরবাসীকে নাবালিকার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘‘জাস্টিস ফর প্রার্থনা’-র ডাক দিচ্ছি। শহরের সকলে গর্জে উঠুন।’’
জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এবং নকশালবাড়ি বিধানসভায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, সেই সময় সাংবাদিক বৈঠক করে শঙ্কর বলেন, ‘‘এমন ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে একটি কথাও শোনা গেল না৷ শহরের অঘোষিত অভিভাবক যিনি (শিলিগুড়ির মেয়র), তিনি ফোনেই পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিলেন। কিন্তু ফল কিছু হল না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে শাসকদলের যোগাযোগ রয়েছে। নাবালিকার বিচারের দাবি চেয়ে আমি শহরবাসীকে শান্তিপূর্ণ ভাবে রাস্তায় নামবার আবেদন জানাচ্ছি। আমার কাছে নির্বাচনী প্রচারের থেকেও এটা জরুরি।’’ আপাতত তা হলে নির্বাচনী প্রচার বাদ? বিদায়ী বিধায়ক বলেন, ‘‘আমার প্রতি শিলিগুড়ি শহরের মানুষের ভালবাসা এত ঠুনকো নয়।’’
মৃতার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে মঙ্গলবার সাক্ষাৎ করেছিলেন মেয়র তথা শিলিগুড়ি বিধানসভার প্রার্থী গৌতম দেব। সেখান থেকেই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছিলেন তিনি। তার পরেও প্রায় ১২ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। কিন্তু অভিযুক্ত অধরা। বুধবার গৌতম নিশানা করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শঙ্করকে। তাঁর কথায়, ‘‘উনি পুরোপুরি রাজনৈতিক কারণ নিয়ে এটা করছেন (ধর্না)। আমি পুলিশকে বলেছি, স্বর্গ হোক বা পাতাল, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতেই হবে।’’
এ ব্যাপারে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত এক মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর নাম এফআইআরে রয়েছে। মহিলার পুত্র অর্থাৎ মূল অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। আশা করছি, শীঘ্রই তিনি ধরা পড়বেন।’’