গৌড়বঙ্গে তদন্তে প্রতিনিধিদল

রাজ্য সরকারের নির্দেশে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিত্ত আধিকারিক জাহির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হল।সোমবার সকালে তদন্ত কমিটির প্রধান উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোমনাথ ঘোষ সহ দু’জনের প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:২৪
Share:

রাজ্য সরকারের নির্দেশে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিত্ত আধিকারিক জাহির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হল।

Advertisement

সোমবার সকালে তদন্ত কমিটির প্রধান উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোমনাথ ঘোষ সহ দু’জনের প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। এ দিন বেলা ১১টা থেকে দীর্ঘক্ষণ তাঁরা ওই আধিকারিকের নথি খতিয়ে দেখেন। আজ, মঙ্গলবার সেই আধিকারিককে ডেকে জেরাও করতে পারেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিত্ত আধিকারিক জাহির হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকারের নির্দেশে গঠিত হয় এক সদস্যের তদন্ত কমিটি। রাজ্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফেও একটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়। যার জেরে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে জাহির হোসেনকে। অভিযোগ, ভুয়ো নথি দিয়ে তিনি বিত্ত আধিকারিকের পদে রয়েছেন। এ ছাড়া আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই তদন্ত শুরু হয়। এ দিন সোমনাথবাবু-সহ তাঁরই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একজন তাঁরা সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখছেন। এক আধিকারিক বলেন, “তদন্ত কমিটিকে সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

Advertisement

এখনও গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ সেমেস্টারের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে এ দিন দুপুরেও বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী দ্রুত ফলাফল প্রকাশের দাবি নিয়ে দেখা করেন পরীক্ষা সমূহের ভারপ্রাপ্ত নিয়ামক শ্যামাপদ মণ্ডলের সঙ্গে। জানা গিয়েছে, স্নাতকের প্রথম বর্ষে অর্নাসে ১২ হাজার ৬৯৪ জন এবং পাশ বিভাগে ৩৬ হাজার ৯২০ জন ও দ্বিতীয় বর্ষের অর্নাসে ৮ হাজার ২০১ জন এবং পাশ বিভাগে ২৩ হাজার ৩৭০ জন পরীক্ষার্থী এ বার পরীক্ষা দিয়েছেন। গত ১০ অগষ্ট সমস্ত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে আবার পরীক্ষা। অথচ এখনও ফলাফল প্রকাশিত না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। পড়ুয়াদের অভিযোগ, পরীক্ষা এগিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। শ্যামাপদবাবু বলেন, “সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকেই আমরা এজেন্সিকে খাতা দেখে সমস্ত কিছুই পাঠিয়ে দিয়েছি। এজেন্সির আর্থিক কিছু সমস্যা থাকায় ফলাফল দিতে দেরি করেছে। তবে প্রক্রিয়া চলছে। আমরা খুব শীঘ্রই ফলাফল প্রকাশের চেষ্টা করছি।”

শুধু ফলই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। পড়ুয়াদের পাশাপাশি অধ্যাপকদের একাংশেরও দাবি, শূন্যপদগুলি পূরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক করা হোক।

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবকুপার আহ্বায়ক সাধন সাহা বলেন, “উপাচার্য সহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অনেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আমরা নতুন উপাচার্য পেতে চলেছি। কিন্তু সেই পদগুলি শূন্যই রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই আমরা চাই দ্রুত স্বাভাবিক হোক বিশ্ববিদ্যালয়।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement