Madhyamik Examination 2026

মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর মুখে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল স্কুল! শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চা তৈরি করতে গিয়ে দুর্ঘটনা

তুফানগঞ্জ নাককাটি গাছ হাই স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট আগে বিস্ফোরণ হয়। জানা যাচ্ছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা তৈরির সময় রান্নার সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৫
Share:

স্কুলের মাঠে সিলিন্ডার ফেটে বিস্ফোরণ! —নিজস্ব ছবি।

সকাল ১০টা থেকে স্কুলে প্রবেশ করতে শুরু করেছিল মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। স্বাভাবিক ভাবেই টেনশনে তারা। পরীক্ষা শুরুর মিনিট ১৫ আগে তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা স্কুল। হুলস্থুল এলাকায়। চিন্তায় পড়ে যান অভিভাবকেরা। সোমবার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনে শোরগোল কোচবিহারের তুফানগঞ্জে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, তুফানগঞ্জ নাককাটি গাছ হাই স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট আগে বিস্ফোরণ হয়। জানা যাচ্ছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা তৈরির সময় রান্নার সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়। তখন পরীক্ষাকেন্দ্রে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা পৌঁছে গিয়েছিল। বিষয়টি চোখে পড়তেই কর্তব্যরত এক সিভিক ভলান্টিয়ার ছুটে যান। জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি স্কুলের মাঠে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঠিক তখনই বিস্ফোরণ হয়। হইচই পড়ে যায় এলাকায়। তুফানগঞ্জের এসডিপিও শ্রী কন্নেধারা মনোজ কুমার বলেন, ‘‘স্কুলচত্বরে একটি ক্যান্টিন রয়েছে। সেই ক্যান্টিনের একটি গ্যাস সিলিন্ডারে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। সেখানে কর্তব্যরত দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার সিলিন্ডারটি স্কুলের মাঠে এনে ফেলে দেন। তার পর মাঠেই সিলিন্ডারটি ফেটে যায়।’’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকলবাহিনী। তারা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই।

Advertisement

বলাভূত হাই স্কুল, বিদ্যাসাগর হাই স্কুল এবং কৃষ্ণপুর হাই স্কুলের মোট ২১০ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তুফানগঞ্জ নাককাটি গাছ হাই স্কুলে তাদের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলাতিতে এমন দুর্ঘটনা হয়েছে। বড় ক্ষতি হতে পারত। বিস্ফোরণের জেরে সিলিন্ডারের ছোট ছোট টুকরো বিভিন্ন জায়গায় ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধানশিক্ষক দুলাল বসাক বলেন, ‘‘আসলে ছোট গ্যাস সিলিন্ডারে পরীক্ষার্থীদের জন্য গরম জল এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা করা হচ্ছিল। হঠাৎ সিলিন্ডারে আগুন লেগে যায়। তবে এই ঘটনায় পরীক্ষায় কোনও প্রভাব পড়েনি। সঠিক সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।’’

ঝুঁকি নিয়ে যিনি জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি বাইরে বার করে নিয়ে যান, সেই সিভিক ভলান্টিয়ার রাজিবুল হক বলেন, ‘‘আগুন লাগার পরেই মাস্টারমশাই আমাকে ডেকে পাঠান। আমি গিয়ে আগুন নেবানোর অনেক চেষ্টা করি। ভেজা কাপড় জড়িয়ে দিলেও আগুন জ্বলছিল। তার পর একটি বাঁশের সাহায্যে সিলিন্ডারটি মাঠের মাঝখানে নিয়ে গিয়ে রেখে দিই। তার মিনিট পাঁচেক পরেই তীব্র বিস্ফোরণে সেটি ফেটে যায়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement