ফের ঘুরে দেখতে পারে দল
সৌমিত্র কুণ্ডু
শিলিগুড়ি
প্রতীকী ছবি
এখনই না-ও ফিরতে পারে উত্তরবঙ্গে আসা কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলটি। আরও ক’দিন থেকে পরিস্থিতি দেখার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁদের। জলপাইগুড়ির বিভাগীয় কমিশনার অজিতরঞ্জন বর্ধন রানিডাঙায় এসএসবি গেস্ট হাউজে আসেন বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে। এখানেই গত ১১ দিন ধরে রয়েছে প্রতিনিধিদলটি। এ দিন এক ঘণ্টার মতো বৈঠক করেন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে। প্রতিনিধিদলের একটি সূত্রেই জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা না-হওয়ার বিষয়টিও তাঁরা ওই আলোচনায় তুলেছেন। বিভাগীয় কমিশনারের তরফে একটি রিপোর্টও এ দিন প্রতিনিধিদলের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যদিও সেটি তাঁরা খতিয়ে দেখেননি বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবারই দলটির ফেরার কথা ছিল। তবে উড়ান সমস্যার জেরে তা বাতিল হয়। এর পর বুধবারও তাঁদের যাওয়া হয়নি। এখন দলের তরফে শোনা যাচ্ছে, তাঁরা আরও কয়েক দিন উত্তরবঙ্গে তথা শিলিগুড়িতে থেকে বিভিন্ন জায়গা ফের ঘুরে দেখতে পারেন। সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে প্রতিনিধিদলের এক সদস্য বলেন, ‘‘আমরা এখনও এখানে রয়েছি।’’
২০ এপ্রিল বিশেষ বিমানে শিলিগুড়ি পৌঁছয় দলটি। প্রথম দু’দিন দিনভর গেস্ট হাউজেই কাটায় তারা। তৃতীয় দিন থেকে শিলিগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শনে যান। মঙ্গলবার তাঁরা জানিয়ে দেন, দ্রুত রিপোর্ট তৈরি করছেন। ফিরে গিয়ে তা তাঁরা কেন্দ্রকে দেবেন।
প্রশাসন এবং প্রতিনিধি দলের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বৈঠকে প্রতিনিধি দলের তরফে জানানো হয়, বারবার শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে তাঁরা ডেকেছেন দেখা করার জন্য। অথচ তিনি আসছেন না। বুধবার ফোনে কথা বলার সময় তাঁকে প্রতিনিধি দলের তরফে জানানো হয়েছে, বাজারগুলিতে ব্যাপক ভাবে ভিড় হচ্ছে। কেন এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন না পুলিশ?— সেই প্রশ্নও তুলেছে প্রতিনিধিদল। বিভিন্ন জায়গা থেকে এদিনও তাঁদের কাছে খবর এসেছে বাইক, টোটো, অটো প্রচুর সংখ্যায় চলেছে। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গে আসা প্রতিনিধিদলের তরফেও চিঠি দেওয়া হয়েছিল। ফের চিঠি দেওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা।
প্রশাসনের একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, দিল্লি থেকে এদিন বার্তা মিলেছে যে, তাঁরা যেন ক’দিন থেকে আরও এক দফায় ঘুরে নেন। যে জায়গাগুলিতে গিয়েছিলেন সে সব ক্ষেত্রে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে কি না দেখতে চান। তবে এখনই খোলসা করে তা বলতে চায়নি প্রতিনিধি দলটি। জলপাইগুড়ির বিভাগীয় কমিশনার অবশ্য এদিন কিছু বলতে চাননি। তাঁর কাছে গেলে গাড়ি দাঁড় না-করিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। পুলিশ কমিশনার ত্রিপুরারি অথর্ব অবশ্য আগেই জানিয়েছিলেন প্রতিনিধিদল আসার কথা তিনি শুনেছেন। তবে তাঁকে ডাকা হয়েছে বলে কোনও চিঠি তিনি পাননি।