অভিবাদন: সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন করোনা আক্রান্ত টোটো চালক ভবেশ বর্মণ। রায়গঞ্জে প্রতিবেশীর হাত তুলে আর্শীবাদ করেন তাঁকে। বৃষ্টির মধ্যে মাথায় ছাতা ধরে ঘরে এগিয়ে দিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাসের। ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আইসি সুরজ থাপা। ছবি: চিরঞ্জীব দাস
রায়গঞ্জ শহরের এক টোটোচালক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় উত্তর দিনাজপুরে গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা, জেলা স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে সেই প্রশ্ন উঠেছিল। রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতালে ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে বৃহস্পতিবার সেই ভবেশ বর্মণকে ছুটি দিল জেলা স্বাস্থ্য দফতর। তবে তাঁকে আরও সাত দিন গৃহ-নিভৃতবাসে থাকতে বলা হয়েছে।
তার পরে ফের টোটো চালাবেন বলে জানিয়েছেন ভবেশ। তাঁর কথায়, ‘‘টোটো চালিয়ে আমার সংসার চলে। তাই ফের রাস্তায় নামার পরে করোনার ভয়ে কেউ আমার টোটোয় না উঠলে পরিবারের লোকেদের নিয়ে পথে বসতে হবে।’’
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, এ দিন জেলার আরও তিন জনের করোনা পরীক্ষার পজ়িটিভ রিপোর্ট এসেছে। তাঁদের বাড়ি ইসলামপুর মহকুমার বিভিন্ন এলাকায়। করোনায় আক্রান্ত ওই তিন ব্যক্তি ভিন্ রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতেন। এই নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হল ২৫৮।
রায়গঞ্জ পুরসভার পুরপ্রধান সন্দীপ বিশ্বাসের দাবি, রায়গঞ্জ শহরে গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা, তা জানতে ৫ জুন জেলা স্বাস্থ্য দফতর শহরের দেবীনগর কালীবাড়ি এলাকায় উপসর্গহীন ২৫ জন বাসিন্দার লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। তাতেই ১০ জুন ভবেশের করোনা পজ়িটিভ রিপোর্ট মেলে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের দাবি, করোনা আবহে ভবেশ নিয়মিত শহরে টোটো চালিয়েছেন। সেই সময় ভিন্ রাজ্য ফেরত করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার কারণে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন বলে মনে করা হচ্ছে। ওই আধিকারিকের কথায়, ‘‘জেলায় গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়েছে ক্না তা স্পষ্ট নয়।’’
এ দিন দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের অ্যাম্বুল্যান্সে বাড়ি পৌঁছন ভবেশ। পুরপ্রধান ও রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপা তাঁকে ফুল, মালা, মাস্ক, স্যানিটাইজ়ার, মিষ্টি ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সংবর্ধনা জানিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দেন।