গঙ্গারামপুর হাসপাতালে উত্তেজনা। —নিজস্ব চিত্র।
তৃণমূল সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হলেন দলেরই শাখা কমিটির নেতার পরিবার। ওই তৃণমূল নেতার ছেলে গুরুতর জখম গৌরাঙ্গ সরকারকে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
ওই হাসপাতাল চত্বরেই অবৈধ ভাবে পার্কিং করে রাখা হয় বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স। ওই অ্যাম্বুল্যান্সের চালকেরা তৃণমূল সমর্থক। তাঁদের সঙ্গেই গণ্ডগোল হয় শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালীতলা এলাকার বাসিন্দা তৃণমূল নেতা দুলাল সরকারের। অভিযোগ, পেশায় হকার ৬৫ বছরের অসুস্থ দুলালবাবুকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য বাইরে থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করায় হাসপাতাল চত্বরে পার্কিং করে থাকা চালকেরা ক্ষেপে যান। তাঁদের গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়িতে রোগীকে তোলা যাবে না বলে তাঁরা দুলালবাবুকে ট্যাক্সিতে উঠতে বাধা দেন বলে দাবি করা হয়েছে। সে সময় দুলালবাবুর ছেলে গৌরাঙ্গ প্রতিবাদ করলে চালকেরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। সে সময় দাদাকে বাঁচাতে গিয়ে দুলালবাবুর দুই মেয়েও আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সামনে একদল চালকের দৌরাত্ম্য ও দলের নেতার পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল কাউন্সিলার অমলেন্দু সরকার হাসপাতালে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এরপর অসুস্থ দুলালবাবু ট্যাক্সিতে করে মালদহ মেডিক্যাল হাসপাতালে রওনা হন।
অমলেন্দুবাবু অভিযোগ, ‘‘ওই চালকেরা অবৈধ ভাবে হাসপাতাল চত্বরে গাড়ি পার্ক করে রেখে সিন্ডিকেট রাজ কায়েম করেছে। দাবি মতো ভাড়া দিয়ে ওদের গাড়ি করে রোগীদের নিয়ে যেতে হবে বলে নিয়ম চালু করেছে।’’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অমলেন্দুবাবু ঘটনাটি তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসূন মিত্রকে জানান। এদিন বিকেলে মহকুমা হাসপাতালের সুপার এবং চিকিৎসকদের ডেকে চেয়ারম্যান প্রসূনবাবু অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলেন। পাশাপাশি গঙ্গারামপুর থানার পুলিশকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
প্রহৃত গৌরাঙ্গ বলেন, ‘‘শুধুমাত্র তেল খরচে পাড়ার পরিচিত একজনের ট্যাক্সি পেয়ে বাবাকে মালদহে নিয়ে যেতে হাসপাতালে গেলে চত্বরে থাকা একদল চালক বাধা দেয়। তাদের থেকে ৩০০০ টাকা ভাড়া দিয়ে গাড়ি নিতে হবে বলে বাবাকে ট্যাক্সিতে উঠতে বাধা দেয়। সে সময় প্রতিবাদ করলে তারা ঘিরে ধরে আমাকে বেধড়ক মারতে থাকে। সে সময় পুলিশ দাঁড়িয়ে সব দেখছিল।’’
ওই তৃণমূল নেতার তরফ থেকে এখনও থানায় অভিয়োগ দায়ের করা না হলেও কাউন্সিলার অমলেন্দুবাবু বলেন, ‘‘পুলিশের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। তারপরেও অভিযোগ করতে হলে করা হবে।’’
জেলা পুলিশ সুপর শীশরাম ঝাঝারিয়া বলেন, ‘‘ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ প্রসূনবাবু বলেন, ‘‘আজ, শনিবার থেকে হাসপাতাল চত্বরের মধ্যে বাইরের কোনও গাড়ি পার্ক করা হলে পুলিশকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’’
শহরের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, তৃণমূলের মদতে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল চত্বরে যে কোনও ছোট গাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স লিখে সিন্ডিকেট রাজ গড়ে সাধারণ মানুষের উপর জুলুম চলতো। এ বার দলের এক নেতার উপর ঘটনাটি ঘটে যাওয়ায় তৃণমূল নেতাদের টনক নড়ছে।