পাহাড়ে এখনও বরফ না পড়লেও শীত জাঁকিয়ে বসেছে উত্তরবঙ্গ-সহ গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলে। শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের মতোই রাতে হুহু করে তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে, গুয়াহাটি, তিনসুকিয়া বা ডিব্রুগড়ের। অধিকাংশ দিনই ভোর থেকে ছেয়ে যাচ্ছে ঘন কুয়াশা। দিনভর এক রকম থাকলেও রাত বাড়তেই ফের নামছে কুয়াশার চাদর। দার্জিলিং মেল থেকে পদাতিক এক্সপ্রেস তো বটেই, এমনকী কোনও কোনও সময় রাজধানী বা শতাব্দীর মত ট্রেনগুলিও কুয়াশার জন্য অনেক সময় দেরিতে চলাচল করছে। শীত পড়তেই ট্রেনের দেরির জন্য যাত্রীদেরও অনেক সময় সমস্যার পড়তে হচ্ছে। রবিবার সকালে একাধিক ট্রেন শিলিগুড়ির এনজেপি স্টেশনে দেরিতে পৌঁছেছে।
এই অবস্থায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ট্রেনগুলির সময় সূচি ঠিকঠাক রাখার চেষ্টা করতে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ১০ জোড়া ট্রেন চলতি ফ্রেব্রুয়ারি মাসে বিভিন্ন দিনে বাতিল করে দিয়েছে। এক ইভাবে জানুয়ারি মাসেও কিছু ট্রেন আগাম বাতিল করা হয়েছিল।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ঘন কুয়াশার জন্য বিভিন্ন ট্রেনের সূচিতে পরিবর্তন করতে হচ্ছে। সেই হিসেবে ১০টি জোড়া ট্রেন আপাতত এক মাস কিছু কিছু দিনে বাতিল করে রাখা হয়েছে। এতে হাতে বেশি সময় থাকায় অন্য ট্রেনগুলি কিছুটা দেরিতে চললেও তাতে খুব একটা সমস্যা হবে না। আপাতত মহাননন্দা এক্সপ্রেস, আম্রপালি এক্সপ্রেস, কাটিহার-পটনা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, অবধ অসম এক্সপ্রেস, সীমাঞ্চল এক্সপ্রেস, ক্যাপিটাল এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র মেল, বারউনি-কাটিহার এক্সপ্রেস এবং রাধিকাপুর-আনন্দবিহার লিঙ্ক এক্সপ্রেসের বিভিন্ন দিনে বাতিল করে রাখা হয়েছে।
উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলে’র মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক প্রণবজ্যোতি শর্মা বলেন, ‘‘যাত্রীদের কাছে আমরা দুঃখিত। কিন্তু কুয়াশায় যা অবস্থা হচ্ছে তাতে ট্রেন দেরিতে চলেছে। তাই কিছু ট্রেন আপাতত নানা দিনে বাতিল করে রাখা হয়েছে। যাত্রীরা ওই ট্রেনগুলির নির্দিষ্ট দিনে টিকিট কাটতে গেলে তা মিলবে কম্পিউটারে চার্টে মিলবে না।’’
রেল সূত্রের খবর, বর্তমানে নিয়ম অনুসারেই কোনও ট্রেনের টিকিট ১২০ দিন আগে থেকেই কাটা যায়। তাই শীতকালে কুয়াশার সমস্যা হবেই ধরে নিয়েই বিভিন্ন ডিভিশনে আলোচনার পর, কম্পিউটার সিস্টেম থেকে ওই নির্দিষ্ট ট্রেনগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়। এবারও তাই করা হয়েছিল। তাই টিকিট কাটতে গেলে কোনও যাত্রী ওই দিনের ট্রেনের টিকিট কোনও ভাবেই কাটতে পারবেন না। অনেক সময় আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভাল থাকলে বাতিল হওয়া ট্রেনের জায়গায় নতুন করে স্পেশাল ট্রেনও চালিয়ে দেওয়া হয়। এ বার অবশ্য আবহাওয়া যা রয়েছে, তাতে স্পেশাল ট্রেনের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলে ইঞ্জিনিয়রেরা জানান, মূলত কুয়াশায় রেল লাইনের সিঙ্গল ট্র্যাক থাকার জন্য সমস্যা হয়। একটি ট্রেন দেরিতে যাতায়াত করলে তার প্রভাব পড়ে অন্য ট্রেনগুলিতেও। এ ছাড়া কুয়াশা শীতে ট্র্যাক এবং সিগন্যাল দেখতে ট্রেনের চালকদের সমস্যা হয়। তাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। এ ছাড়া কোনও কোনও সময় দৃশ্যমানতা ২০০ মিটার থেকে নেমে ১০০-৫০ মিটার হয়ে যায়। এতে ট্রেন দেরিতে চলায় বিপত্তি বাড়ে যাত্রীদের। তাই ওই লাইনের কিছু কিছু ট্রেন বাতিল করে সময় হাতে বেশি রাখা হয়। রাজধানী থেকে শতাব্দী এক্সপ্রেস বা দার্জিলিং মেল বা পদাতিকের গতিবেগ এর জন্য অনেক সময়ই প্রতিঘন্টা ১০০-১৩০ কিলোমিটার থেকে নেমে ৫০-৫৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টার ধারেকাছে চলে আসছে। রেলের কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম উমাশঙ্কর সিংহ যাদব বলেন, ‘‘যাত্রীদের সুবিধার জন্য ট্রেন বাতিল করে শীতের সময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করা হয়।’’