র‌্যাগিং-কাণ্ড

ন’দিনেও রিপোর্ট দিল না তদন্ত কমিটি

র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছিলেন উপাচার্য। অথচ ন’দিন পরেও তদন্ত রিপোর্ট দিতে পারল না পাঁচ সদস্যের কমিটি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০১৫ ০২:২০
Share:

র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছিলেন উপাচার্য। অথচ ন’দিন পরেও তদন্ত রিপোর্ট দিতে পারল না পাঁচ সদস্যের কমিটি।

Advertisement

অনেকের সঙ্গেই এখনও কথা-ই বলতে পারেননি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে তদন্ত কী পরিস্থিতিতে রয়েছে তা নিয়ে একটি আভ্যন্তরীণ রিপোর্ট দিয়েছে। তদন্তের কাজে আরও সময়ও চেয়েছে তারা। তা নিয়ে এ দিন বৈঠক করে অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটি। সম্পূর্ণ রিপোর্ট দিতে তদন্ত কমিটিকে আরও সময় দিতে সম্মতি দেয় তারা।

উপাচার্য সোমনাথ ঘোষ বলেন, ‘‘আভ্যন্তরীণ রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে এ দিন আলোচনা হয়। আরও কিছু ছাত্র এবং অন্যান্যদের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কমিটি সময় চেয়েছে। সম্পূর্ণ রিপোর্ট পেলে সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিটির তরফে রামকৃষ্ণ হস্টেলের তিন জন নিরাপত্তরক্ষী, অভিযুক্ত সিনিয়র ছাত্রদের এবং এক চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওই হস্টেলে থাকতেন অভিযোগকারী ছাত্রটি। অভিযোগকারী ছাত্রটি অসুস্থ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওই চিকিৎসকের কাছে দেখাতে যান।

রামকৃষ্ণ হস্টেলে নিচ তলাতেই থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। তাঁর নামে সরাসরি অভিযোগকারী ছাত্র বা তার পরিবারের তরফে কোনও নালিশ জানানো না হলেও ওই ছাত্রনেতা এবং তাঁর লোকজনই ঘটনায় যুক্ত বলে ছাত্র পরিষদের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকী অভিযোগকারী জানিয়েছেন, অভিযোগে যে ১৩ জনের নাম রয়েছে তাঁরা ছাড়াও আরও কয়েকজন অভিযুক্ত রয়েছেন। অভিযোগকারী ছাত্রের পাশে না থেকে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ওই ছাত্রনেতা কিছুই ঘটেনি বলে কেন দাবি করছেন তা নিয়েই সন্দেহ গাঢ হয়েছে বলে অভিযোগ ছাত্র পরিষদের। অথচ তদন্ত কমিটি কেন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে না, কেন ওই ছাত্রনেতা হস্টেলে থাকার পরেও দিনের পর দিন সেখানে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। তা ছাড়া অভিযোগকারী এবং ওই ছাত্রনেতা উভয়েই মাস্টার অব কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন বিভাগের পড়ুয়া। ক্লাসের পড়ুয়াদের অনেকে র‌্যাগিংয়ের বিষয়টি জানলেও ওই ছাত্র নেতা তাদের মুখ খুলতে নিষেধ করে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

Advertisement

রামকৃষ্ণ হস্টেলের নিচ তলায় থাকেন মাস্টার অব কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্ররা। সিনিয়র ছাত্ররা থাকেন উপরের তলায়। রাতে তাঁদেরই অনেকে প্রথমবর্ষের ছাত্রদের একাংশকে ডেকে নিয়ে গিয়ে র‌্যাগিং করত বলে অভিযোগ। অভিযোগ না জানালেও আরও চার জন হস্টেল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কেন তাঁরা চলে গিয়েছেন সে ব্যাপারে জানতে ওই ছাত্রদের ডাকা হয়েছে। তবে তাদের কেউ এখনও যোগাযোগ করেননি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশই জানিয়েছেন। এমনকী অভিযোগকারী ছাত্রের বাবা অভিযোগ করলেএও ছাত্রটিকে লিখিত ভাবে জানাতে হবে। সে জন্য তাদের ডাকা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারলে তদন্তের কাজও অসমাপ্ত থাকবে।

ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি রোনাল্ড দে বলেন, ‘‘ওই ছাত্র নেতাকে বাঁচাতে এবং ঘটনা চাপা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ সক্রিয়। আমরা সবই নজর রাখছি। শীঘ্রই আন্দোলনে নামব।’’ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার অব কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন (এমসিএ) বিভাগে এ বছর ভর্তি হওয়া দক্ষিণবঙ্গের এক ছাত্রের বাবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ডাকে ওই অভিযোগ পৌঁছয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ পুলিশে অভিযোগ জানাতেও দেরি করেন কর্তৃপক্ষ। ২৫ সেপ্টেম্বর মাটিগাড়া থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের তরফে অভিযোগ করা হয়। উপাচার্য সোমনাথ ঘোষ সে সময় কাজে কলকাতায় ছিলেন। ২৯ সেপ্টেম্বর ফিরে তিনি ওই দিন বিকেলেই ৫ জনের কমিটি গঠন করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা জানান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement