নদীর পিছনে তাঁবু খাটিয়ে প্রকৃতি পাঠ

কেউ প্রথম বার এসেছে। কারোর আবার এই নিয়ে দ্বিতীয় বার। জঙ্গলের তাঁবুতে রাত কাটিয়ে সকালে জঙ্গল ঘোরার নেশায় বুঁদ ওরা। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের সন্তালা বাড়ি এলাকার পুরনো বক্সা পাহাড়ে যাওয়ার রাস্তার পাশে পিলখানা এলাকায় চলছে প্রকৃতি পাঠ শিবির। ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে রোভার্স অ্যান্ড মাউন্টেনিয়ার্স ক্লাবের বার্ষিক প্রকৃতিপাঠ শিবির। তাতে যোগ দিয়েছে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪ ০১:৫৪
Share:

কেউ প্রথম বার এসেছে। কারোর আবার এই নিয়ে দ্বিতীয় বার। জঙ্গলের তাঁবুতে রাত কাটিয়ে সকালে জঙ্গল ঘোরার নেশায় বুঁদ ওরা। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের সন্তালা বাড়ি এলাকার পুরনো বক্সা পাহাড়ে যাওয়ার রাস্তার পাশে পিলখানা এলাকায় চলছে প্রকৃতি পাঠ শিবির। ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে রোভার্স অ্যান্ড মাউন্টেনিয়ার্স ক্লাবের বার্ষিক প্রকৃতিপাঠ শিবির। তাতে যোগ দিয়েছে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই।

Advertisement

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “১৯৩৯ সালে রোভার্স অ্যান্ড মাউন্টেনিয়ার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন প্রয়াত পরিবেশবিদ জগন্নাথ বিশ্বাস। ১৯৫৬ সাল থেকে জগন্নাথবাবু ও তাঁর সতীর্থরা শুরু করেন পাহাড় জঙ্গলে প্রকৃতিপাঠ শিবির। মাঝে নানা কারণে কয়েক বছর ক্যাম্প হয়নি। তবে কয়েক বছর ধরে ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ভাবে তাঁরা শিবির করে আসছেন।

এ বছর কলকাতা, নদিয়া, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি-সহ নানা জায়গা থেকে ৪০ জন মেয়ে-সহ ১০৫ জন যোগ দিয়েছেন শিবিরে। শিবির শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর।

Advertisement

এক সময়ে ইংরেজ শাসকেরা ঘোড়ায় চড়ে সান্তালাবাড়ি হয়ে বক্সা দুর্গে যেতেন যেই পাহাড়ি পথ বেয়ে, সেই ঐতিহাসিক রাস্তার পাশে পিলখানা মাঠে, জয়ন্তী, গরম, তোর্সা-সহ নানা নদীর নামে খাটানো হয়েছে তাঁবুগুলি। ছোটরাই জানাল, এখন আর কেউ এই পথে যাতায়াত করেন না। রাত নামলেই শুরু হয় হাতিদের আনাগোনা।

তবে সব ভয় ছাপিয়ে গাছ-পাখি চেনা, নদী পেরনোর বিভিন্ন কৌশল, বিপদে পড়লে কী ভাবে জঙ্গলে আস্তানা বানিয়ে রাত কাটানো যাবে, এই সবেরই হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ছোটরা। রাইনো দলের সদস্য অরিন দাস, কীর্তি থাপা, কারুবাকী গোস্বামীরা জানাল, বাবা-মাকে ছেড়ে থাকলেও জঙ্গল বেশ ভালই লাগছে ওদের। কলকাতার বেহালা থেকে আসা বছর পঁচাত্তরের বিদু সরকারকে দেখা গেল জঙ্গলের ভিতরে আস্তানা বানাতে।

তিনি বললেন, “প্রকৃতিপাঠ শিবির আত্মনির্ভরতা তৈরি করে। সঙ্গে জঙ্গল নিয়ে মানুষের ভয়টাও দূর করে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement