পুজোর মুখে দুঃস্থ বাসিন্দাদের পাশে দুঃস্থ শিশুরা

হলদিবাড়ির রেলগুমটির কাছে রেললাইনের ধারে বাস করেন বিমলা মণ্ডল। স্বামী নিরুদ্দেশ। নিজে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। দুই মেয়ে টুম্পা এবং কাবেরী। একজনের বয়স এগারো অন্যজনের বয়স তিন। বড় মেয়ে টুম্পা একজনের বাড়িতে কাজ করে। তিনি ছোট মেয়ে কাবেরীকে নিয়ে রোজ জলপাইগুড়িতে ভিক্ষে করতে আসেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৫ ০২:০৪
Share:

দুঃস্থ পরিবারের সদস্যদের হাতে বস্ত্র তুলে দিচ্ছে দুঃস্থ শিশুরা। নিজস্ব চিত্র।

হলদিবাড়ির রেলগুমটির কাছে রেললাইনের ধারে বাস করেন বিমলা মণ্ডল। স্বামী নিরুদ্দেশ। নিজে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। দুই মেয়ে টুম্পা এবং কাবেরী। একজনের বয়স এগারো অন্যজনের বয়স তিন। বড় মেয়ে টুম্পা একজনের বাড়িতে কাজ করে। তিনি ছোট মেয়ে কাবেরীকে নিয়ে রোজ জলপাইগুড়িতে ভিক্ষে করতে আসেন।
এরকম দুঃস্থ পরিবারগুলির পরিবারের সদস্যদের হাতে সোমবার মহালয়ার দিন সকালে সংগৃহিত বস্ত্র তুলে দিল দুঃস্থ শিশুরা। এরা সকলেই জলপাইগুড়ি শহরের বয়স্ক মহিলাদের সংগঠন ‘বাঁচবো বাঁচাবো’র দু:স্থ শিশুরা। সংগঠন সুত্রে জানা যায় যে সুস্থ শিশুদের আত্ম সম্প্রসারণ, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই সোমবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় আনন্দমেলা। রবিবার বস্ত্র বিতরণের কথা মাইক দিয়ে প্রচার করা হয়।
সংগঠনের সম্পাদিকা ইন্দিরা সেনগুপ্ত বলেন, “এখন সমাজ আত্মকেন্দ্রীক। এরা নিজেদেরটা ছাড়া আর কিছুই বোঝেনা। আমরা সেই মনোভাব পাল্টানোর জন্য আমাদের সংগঠনের দুঃস্থ শিশুদের দিয়ে বস্ত্র বিতরণ করিয়েছি। শিশুদেরও বস্ত্র দেওয়া হয়েছি। সারাদিন এরা আনন্দের মধ্যে দিয়ে দিনটি উপভোগ করে।” সংগঠন সুত্রে জানা যায় যে বিভিন্ন ব্যাক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংগৃহীত বস্ত্র এদিন বিতরণ করা হয়। শুধু বস্ত্র তুলে দেওয়াই না, দুপুরে ভুরিভোজের পর এরা মেতেছিল গান, আবৃত্তি, নাচ এবং নাটকে। এদিনই দুপুরে দুঃস্থ শিশুরা রবীন্দ্রনাথের ডাকঘর নাটক মঞ্চস্থ করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সারা দিনের এই অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় আনন্দমেলা।
এ দিন যাঁরা বস্ত্র পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে ডলি সাহা এসেছিলেন এক মেয়ে এবং ছেলেকে নিয়ে। ডলিদেবীর স্বামী অমল ২০১২ সালে খুন হয়ে যান। তার পর থেকে তিনি দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে ফুলের টব বিক্রি করে এবং অন্যান্যদের সাহায্যের ওপর নির্ভর করে রেসকোর্সপাড়ার নিবেদিতা সরণীতে বাস করছে। মেয়ে অন্তরা এবং ছেলে অংশুমান জলপাইগুড়ির ক্লাব রোডে একটি প্রাথমিক স্কুলে পড়ে। তার ছেলেমেয়েরা দু’জনেই বাঁচবো বাঁচাবো সংগঠনের সভ্য। এদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এরা সকলেই অংশগ্রহণ করে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement