পৃথক দুটি পথ দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশের নাগরিক সহ চারজন মারা গেলেন। রবিবার দুপুরে ময়নাগুড়ি অসম মোড় সংলগ্ন এলাকায় ছোট বাসের ধাক্কায় সাইকেল আরোহী এক ব্যক্তি মারা যান। বিকেলে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের বালাপাড়া এলাকায় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাসের সঙ্গে ছোট গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন জনের মৃত্যু হয়। জখম হন আটজন। তাঁদের মধ্যে একজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চারজনকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ময়নাগুড়ি অসম মোড় এলাকায় মৃত ব্যক্তির নাম নলিনী দত্ত (৬০)। বালাপাড়া এলাকায় মৃতদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গিয়েছে। তাঁরা হলেন রসনাথ রায় (৪৩) এবং দিলীপ রায় (৪০)। দুই ব্যক্তি বাংলাদেশের দেবীগঞ্জ এলাকার সবুজপাড়া থেকে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে শিবমন্দির এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। গাড়ির চালকের পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ সরকারি বাস আটক করেছে। চালক পলাতক।
জেলা পুলিশ সুপার আকাশ মেঘারিয়া বলেন, “বালাপাড়ার ঘটনায় ছোট গাড়ি থেকে পাসপোর্ট মিলেছে। মৃত চালকের পরিচয় জানা যায়নি। সরকারি বাস চালকের খোঁজ চলছে।” সদর হাসপাতাল সুপার গয়ারাম নস্কর বলেন, “জখম ব্যক্তিদের মধ্যে চার জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।” জখম যাত্রীদের অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের মালদহ থেকে ধূপগুড়িগামী একটি বাস ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের বালাপাড়ার কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ছোট গাড়িকে ধাক্কা মারে। পরে চ্যাংরাবান্ধা থেকে শিলিগুড়িগামী একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ওই গাড়িতে আট জন যাত্রী ছিলেন। বাসের ধাক্কায় ছোট গাড়িটি দুমড়ে যায়। চালক সহ তিন জন ঘটনাস্থলে মারা যান। স্থানীয় বাসিন্দারা জখমদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দু’পাশে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। যদিও আধ ঘণ্টা পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জখম শিবমন্দির এলাকার বাসিন্দা ভবেনচন্দ্র রায় জানান, ছোট গাড়ি ভাড়া করে বাংলাদেশের আত্মীয়দের আনতে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে যান। ফেরার সময় গাড়িতে কয়েকজন যাত্রী তুলে নেন। গাড়ি ধীরে চলছিল। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাসটি আচমকা মুখোমুখি ধাক্কা মেরে দাঁড়িয়ে যায়। তিনি বলেন, “মৃতরা প্রত্যেকে সামনের আসনে বসেছিলেন।” জখম যাত্রী শঙ্কর বর্মণ বলেন, “ঝড়ের গতিতে বাসটি আসছিল। আমাদের গাড়ি রাস্তার কিনারে চলে যায়। বাসটি আচমকা একটি ছোট গাড়িকে ধাক্কা মেরে আমাদের সামনে চলে আসে। এর পরে কী হয়েছে বলতে পারব না।” এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুর নাগাদ ময়নাগুড়ির অসমমোড় এলাকায় রাস্তা পারাপারে সময় মরিচ বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা নলিনী দত্ত ছোট গাড়ির সামনে পরে যান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।