পঞ্চায়েতে তালা ঝুলিয়ে অবস্থানে প্রধান, সদস্যরা

দফতরের নির্বাহী সহায়কের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় শেষমেশ দফতরে তালা ঝুলিয়ে বিডিও-র হাতে চাবি তুলে দিয়ে ধর্নায় বসলেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রধান-সহ তাঁর দলের পঞ্চায়েত সদস্যরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৫ ০৪:০৪
Share:

দফতরের নির্বাহী সহায়কের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় শেষমেশ দফতরে তালা ঝুলিয়ে বিডিও-র হাতে চাবি তুলে দিয়ে ধর্নায় বসলেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রধান-সহ তাঁর দলের পঞ্চায়েত সদস্যরা।

Advertisement

ডুয়ার্সের বানারহাটের ওই পঞ্চায়েত অফিসে শুধু তালা ঝোলানো নয়, নির্বাহী সহায়ককে অন্যত্র বদলি না করা পর্যন্ত তালা না খোলার ও লাগাতার ধর্না আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও তাঁরা বিডিও কে জানিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনায় ওই এলাকা-সহ প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ধূপগুড়ির বিডিও শুভঙ্কর রায় প্রধানের আচরণে ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মেটানো যেত। প্রধানের বিরুদ্ধে এর আগে কাজ শেষ করার পর ঠিকাদারদের চেকে সই না করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য আমি মঙ্গলবার কর্মী ও প্রধান ও অন্য পঞ্চায়েতদের দফতরে বৈঠকে ডাকি। প্রধান ওই নির্বাহী সহায়কের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন না বলে জানিয়েছেন।’’ গত বুধবার দফতরের তালা খুলতে গেলে বিডিও অফিসের কর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে বিডিও অভিযোগ তোলেন। ঘটনাটি জেলার কর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে শুভঙ্করবাবু জানিয়েছেন।

গত সোমবার ডুয়ার্সের বানারহাট ২ নম্বর পঞ্চায়েতের দফতরে তালা ঝোলানো হয়। বৃহস্পতিবার তালাবন্ধ ওই পঞ্চায়েতের সামনে সদলবলে ধর্নায় বসেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ও কংগ্রেস জোটের প্রধান সঙ্গীতা ওঁরাও-সহ বাকিরা। নির্বাহী সহায়ক নীলম লামাকে বদলি না করা পর্যন্ত তাঁরা দফতর অচল করে রাখবেন বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ দিকে পঞ্চায়েতের সমস্ত কাজ থমকে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার আটটি চা বাগান-সহ তিনটি বনবস্তির কয়েক হাজার লোকজন। এ দিনও বহু মানুষ দফতরে তালা ঝুলতে দেখে ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিরোধী তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যরা অবশ্য এই আন্দোলনকে সমর্থন করছেন না। তাঁদের এক পঞ্চায়েত সদস্য আলিমুদ্দিন বলেছেন, ‘‘উভয়পক্ষ বসে মিটমাট করলে সমস্যা দূর হতে পারে। এ ভাবে পঞ্চায়েত দফতর অচল করে রাখার মানে হয় না।’’ যদিও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা পরশনাথ বরাইক বলেছেন, ‘‘একজন নির্বাহী সহায়কের জন্য কাজ থমকে থাকবে তা মানা যায় না। তার বদলির জন্য বিডিও বা বাকি আধিকারিকদের আবেদন করে লাভ হয়নি। ওই নির্বাহী সহায়ক বৈঠকে থাকলে আমাদের প্রধান বা বাকিরা কোনও আলোচনায় বসবেন না। বদলি করা না হলে আরও বড় ধরনের আন্দোলনে নামা হবে।’’

Advertisement

ওই পঞ্চায়েতের মোট সদস্য ২০ জন। এর মধ্যে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ৯টি, তৃণমূল ৭টি ও কংগ্রেস ৭টি আসন পায়। কংগ্রেসের সমর্থনে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা বোর্ড গঠন করে। বছর দেড়েক আগে দফতরের নির্বাহী সহায়ক নীলম লামা কাজে যোগ দেন। শুরু থেকে নীলমদেবীর সঙ্গে প্রধানের বনিবনা হচ্ছে না। প্রধান কোনও সিদ্ধান্ত নিলে নীলমদেবী প্রায়ই তা মানতেন না বলে অভিযোগ। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রধান সঙ্গীতাদেবীর অভিযোগ, ‘‘সব ক্ষেত্রেই নীলমদেবী আপত্তি করছেন। কাজকর্ম করা যাচ্ছে। তাই এলাকার লোকজন অফিসে তালা ঝোলান।’’ নীলমদেবী অবশ্য প্রধানের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘সব ঠিকঠাক চলছে। যা বলার তা ব্লক কর্তাদের জানানো হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement