বাজ পড়ে ‘সেন্ট্রাল মডিউল’ বিকল হয়ে পড়ায় তিন দিন ধরে তুফানগঞ্জ মহকুমায় বিএসএনএলের ল্যান্ডলাইন পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। থানা, দমকল, হাসপাতাল, অ্যাম্বুল্যান্স সহ প্রশাসনিক দফতরের কোনও ফোনেই সাড়া মিলছে না বলে অভিযোগ। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন প্রশাসন, দুর্ভোগে বাসিন্দারা। কবে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে কিছু জানাতে না পারায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিএসএনএলের কোচবিহার জেলা ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দিলীপ রায় বলেন, “বাজ পড়ে যন্ত্রাংশের ক্ষতি হওয়ায় সমস্যা হয়েছে। দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিকের চেষ্টা হচ্ছে।”
বিএসএনএল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ জুলাই রাত সাড়ে ৭টা নাগাদ তুফানগঞ্জ মহকুমা জুড়ে বজ্রপাত-সহ বৃষ্টি হয়। ওই সময় বাজ পড়ে তুফানগঞ্জ টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ‘সিএম’ বিকল হয়ে পড়ে বলে জানা গিয়েছে। তার পর থেকে তুফানগঞ্জ, বক্সিরহাট, মারুগঞ্জ এক্সচেঞ্জের অধীন মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ল্যান্ডলাইনের সব টেলিফোন অচল হয়ে পড়েছে। ফলে তুফানগঞ্জ, বক্সিরহাট থানা, তুফানগঞ্জ দমকল কেন্দ্র, হাসপাতাল, অ্যাম্বুল্যান্স সংক্রান্ত দফতরে যোগাযোগ করতে পারছেন না বাসিন্দারা। শনিবার স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ররা মেরামতির চেষ্টা করেন, তাতে সেন্ট্রাল মডিউল বিকল হয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। রবিবার দিনভর বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ররা পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালালেও লাভ হয়নি বলে জানা গিয়েছে। তুফানগঞ্জের মহকুমাশাসক পালদেন শেরপা বলেন, “বিএসএনএল আধিকারিকদের সঙ্গে এদিন কথা বলেছি। দেখা যাক কত তাড়াচাড়ি পরিষেবা মেলে।” তুফানগঞ্জ ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি স্বপন সাহা বলেন, “ফ্যাক্সে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠাতে হয়। ফলে ল্যান্ডলাইনের ফোন ছাড়া অফিসের কাজ চালানো মুশকিল। সোমবার পরিষেবা স্বাভাবিক না হলে দুর্ভোগ বাড়বে।”
সেন্ট্রাল মডিউলের মাধ্যমেই সমস্ত ল্যান্ডফোন সচল রাখা হয়। ফলে ওই যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ায় একসঙ্গে তুফানগঞ্জে বিস্তীর্ণ এলাকায় দুহাজারের বেশি ফোন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তুফানগঞ্জ থানার এক আধিকারিক বলেন, “ল্যান্ডলাইনে দৈনিক গড়ে তিনশ-রও বেশি ফোন আসে। ফোনে অভিযোগ জানানো হয়। শুক্রবার রাত থেকে আর হচ্ছে না। বড় সমস্যা হলে খবর জানা নিয়েই এখন চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।” এই প্রসঙ্গে বিএসএনএলের তুফানগঞ্জ এক্সচেঞ্জের এক ইঞ্জিনিয়র হাবিবুর রহমান দাবি করেছেন, রবিবার ছুটির দিনে পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।