ঘরের ছাদে ঝুল-কালি। করিডর দিনের পর দিন পরিষ্কার না হওয়ায় নোংরা হয়ে পড়ে রয়েছে। ভিআইপি-দের ঘরগুলো দেখলেও ঢুকতে ইচ্ছে করবে না। অথচ শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম যুব আবাস সংস্কারের জন্য ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা এবং ডাবগ্রাম এলাকার যুব আবাস তৈরির জন্য ৬২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এক বছরেও কিছুই কাজ হয়নি দেখে বুধবার পরিদর্শনে এসে ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে ভর্ৎসনা করেন যুব এবং ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বিকেলের মধ্যেই জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁকে সরিয়ে আরেক জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অরূপবাবু বলেন, ‘‘যুব আবাসের পরিস্থিতি নিয়ে আমার কাছেও অভিযোগ পৌঁছেছে। কাজ কেন হয়নি তা জানতে চাওয়া হয়েছে। জেলাশাসককে এ দিন রাতের মধ্যেই রিপোর্ট দিতে বলেছি।’’
জেলাপ্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ছ’মাস আগে পর্যন্ত বরাদ্দ টাকা তহবিলেই পড়েছিল। এর পরেই জেলাশাসক মহকুমা পরিষদের মাধ্যমে ওই কাজের সিদ্ধান্ত নেন। সুবীর চট্টোপাধ্যায় নামে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার এক আধিকারিককে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কোনও কাজ এগোয়নি। মহকুমা পরিষদের একটি সূত্রেই জানা গিয়েছে, পূর্ত দফতর ওই কাজ করবে। কিন্তু আগের বাজেট মতো কাজ হচ্ছে না দেখে তা নতুন করে পাঠানো হয়। সেই জন্যই দেরি। জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘মন্ত্রীর নির্দেশ মতো বিস্তারিত তাঁকে জানানো হয়েছে। দ্রুত যাতে ওই কাজ সম্পন্ন হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’
যুব দফতর সূত্রেই জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে যুব দফতরের অতিথি নিবাস রয়েছে। কিন্তু সেখানকার ঘরের পরিস্থিতি এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব নিয়ে নানা সময়েই অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে ডাবগ্রামে যুব আবাসের চার তলা একটি ভবন রয়েছে। সেই ভবনটিও বেহাল। সেখানে কেউ থাকতেও চান না। অথচ সেখানে ভিআইপি-দের জন্য দু’টি ঘর রয়েছে। চার তলা ভবনে এ ছাড়াও সাধারণের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। অপরিষ্কার ঘরগুলি স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ দিন ঘরগুলি খোলা হয় না বলেই আধিকারিকদের একাংশের মত। পুরু ধুলোর আস্তরণ পড়ে রয়েছে চেয়ার, টেবল, সোফাতে। বিছানাগুলিও সব ঠিকঠাক নেই।
এ দিন হস্তশিল্প মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান সেরে যুব আবাসগুলি ঘুরে দেখবেন বলে মন্ত্রী জানিয়ে দেন। সেই মতো জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব, মহকুমাশাসক রাজনবীর সিংহ কপূর, যুব কল্যাণ দফতরের অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে তিনি ওই দু’টি যুব আবাস ঘুরে দেখেন। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের যুব আবাসে গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি দেখে হতাশ হন। জেলাশাসকের মাধ্যমেই ওই টাকা খরচ করতে দেওয়া হয়েছিল। তাই তাঁকেই প্রশ্ন করেন তিনি।
সেখান থেকে ডাবগ্রাম এলাকার যুব আবাসে গিয়ে চার তলা ভবনের পরিস্থিতি দেখে আরও হতাশ হন তিনি। এলাকার কাউন্সিলর কৃষ্ণ পাল জানান, ওই যুব আবাসটি সঠিক ভাবে দেখভাল হচ্ছে না। ছাত্রছাত্রী বা লোকজন থাকতে চান না। অথচ ভবনের সংস্কারে এক বছর আগে টাকা দেওয়া হয়েছে। এর পরই তিনি সংস্কার না হওয়া নিয়ে মহকুমা শাসকের দফতরের ওই আধিকারিককে ধমক দেন।