মানিকচকে জমি-বিবাদে খুন তৃণমূল সদস্যের ছেলে

বাড়ির সীমানা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে মৃত্যু হয়েছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার পুত্রের। ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই পক্ষের তিন জন। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ জেলার মানিকচক থানার বড়ো বাগান গ্রামে। এই ঘটনায় জড়িয়ে গিয়েছে রাজনীতিও। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম আনুয়ার হোসেন (২৬)। তাঁর মা তাহেরাবিবি তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ অগস্ট ২০১৫ ০২:০১
Share:

মানিকচকে আহত তৃণমূল সমর্থকের সঙ্গে কথা বলছেন সাবিত্রী মিত্র। নিজস্ব চিত্র।

বাড়ির সীমানা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে মৃত্যু হয়েছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার পুত্রের। ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই পক্ষের তিন জন। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ জেলার মানিকচক থানার বড়ো বাগান গ্রামে।
এই ঘটনায় জড়িয়ে গিয়েছে রাজনীতিও। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম আনুয়ার হোসেন (২৬)। তাঁর মা তাহেরাবিবি তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। ওই যুবক বাড়ির জমি দেখাশোনা করতেন। ঘটনায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা তাহেরাবিবির স্বামী মাজিজুল শেখ ও বড়ো ছেলে সাদিকুল শেখও আহত হয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন মাঞ্জারুল শেখ। তিনি কংগ্রেস কর্মী বলে পরিচিত। আহতদের মধ্যে মাজিজুল এবং মাঞ্জারুল চিকিৎসাধীন রয়েছেন মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে। আর সাদিকুলের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়েছে।
মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবারের লোকেরা। তবে কংগ্রেস কর্মীদের পরিবারের তরফ থেকে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘জমি সংক্রান্ত বিষয়ের জেরে গোলমাল। এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আহত রয়েছেন তিন জন। এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকচকের বড়ো বাগান গ্রামে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তাহেরাবিবির পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী মাঞ্জারুল শেখদের বাড়ির সীমানা নিয়ে গোলমাল চলছিল। মাঞ্জারুল সক্রিয় কংগ্রেস কর্মী হিসেবে গ্রামে পরিচিত। সীমানা নিয়ে জমির মেপে দেখাও হয়েছে। তবে কোনও সুরাহা হয়নি। বাড়ির সীমানা বরাবরই একটি আম গাছ রয়েছে। দুই পক্ষই দাবি করে গাছটি তাঁদের জমিতে রয়েছে। এদিন সকালে মাঞ্জারুল দলবল নিয়ে আম গাছটি কাটতে আসেন। সেই সময় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তাহেরাবিবির ছোট ছেলে আনুয়ার হোসেন বাধা দিতে গেলে হাঁসুয়া নিয়ে তাঁর উপরে চড়াও হয়ে তাঁকে এলোপাথারি আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় তাহেরাবিবির স্বামী মাজিজুল ও বড়ো ছেলে সাদিকুল শেখ ছুটে গেলে তাঁদের উপরেও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ মাজিজুলেরাও পাল্টা হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আনুয়ারের।

Advertisement

এই ঘটনায় পুলিশ মাঞ্জারুল শেখের ভাই হোসেন শেখকে গ্রেফতার করেছে। তাহেরাবিবি বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরেই আমাদের উপর আক্রাশ ছিল মাঞ্জারুলদের। তবে আমার ছেলেকে তারা শেষ করে দেবে ভাবতে পারিনি। থানায় তাঁদের পরিবারের চার জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’’ আহত সাদিকুল শেখ বলেন, ‘‘গ্রামে আমিন নিয়ে জমি মাপা হয়েছে। মাপার পরে জমিটি আমাদেরই বলে প্রমাণিত হয়। তবে অন্য পক্ষ তা মানতে চাইছে না। গায়ের জোরে দখল করার চেষ্টা করছে। এদিন সীমানায় থাকায় আম গাছ কাটতে যায় তারা। ভাই বাধা দিলে তাঁকে খুন করা হল।’’

আহত মাঞ্জারুল বলেন, ‘‘প্রতিবেশীরাই আমার জমি জোর করে দখল করার চেষ্টা করছিল। আমরা বাধা দিলে হামলা চালায়।’’

Advertisement

এদিন আহত কর্মীদের দেখতে মানিকচক ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান রাজ্যের উদ্বাস্তু মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সুচিকিৎসার নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘ওই পরিবারের উপরে কংগ্রেসকর্মীদের আক্রোশ ছিল। এদিন পরিকল্পিত ভাবে গোলমাল বাঁধিয়ে আমাদের একজনকে খুন করল। আহতও হয়েছেন দুই জন। পুলিশকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’’

এই বিষয়ে কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি অভিজিৎ মিশ্র বলেন, ‘‘এখানে রাজনৈতিক কোনও বিষয় নেই। জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গোলমাল হয়েছে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement