মেলা করেই লোক টানছে শিলিগুড়ির পুজো

পুজোর মাঠে মেলা। আর মেলাকে কেন্দ্র করেই শিলিগুড়ির ছোট-বড় পুজোগুলি মণ্ডপে লোক সমাগম বাড়ানোর দিকে মন দিয়েছেন। বিগত বেশ কিছু বছর ধরে শহরের পুজোগুলির ‘ট্রেন্ড’-এ মেলার একটা বড় প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

Advertisement

সংগ্রাম সিংহ রায়

শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৫ ০৪:১১
Share:

এমন মেলার টানেই ভিড় জমবে বলে আশা উদ্যোক্তাদের। —ফাইল চিত্র।

পুজোর মাঠে মেলা। আর মেলাকে কেন্দ্র করেই শিলিগুড়ির ছোট-বড় পুজোগুলি মণ্ডপে লোক সমাগম বাড়ানোর দিকে মন দিয়েছেন। বিগত বেশ কিছু বছর ধরে শহরের পুজোগুলির ‘ট্রেন্ড’-এ মেলার একটা বড় প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এতে লোক সমাগম যেমন বাড়ছে তেমনি মেলায় স্টল ভাড়া দিয়ে পুজোর খরচের একটা অংশ তুলে নেওয়া যাচ্ছে বলে পুজো উদ্যোক্তাদের একাংশের দাবি। ফলে সুযোগ থাকলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার সুযোগ ছাড়তে চান না অনেকেই।

Advertisement

পুজোর চারটে দিন কোন মণ্ডপে কত দর্শক থাকবে তার প্রতিযোগিতা চিরকালীন। পুজোকে কেন্দ্র করে নানারকম উপায়ে দর্শককে আটকে রাখতে নিত্য নতুন চেষ্টা করে চলেন উদ্যোক্তারা। পুজোর সময়ে সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দর্শক মনোরঞ্জনের চেয়ে উদ্দেশ্য থাকে মণ্ডপে লোক সমাগম ধরে রাখা। বিগত কয়েক বছরে শিলিগুড়ির বড় পুজোগুলির একটা বড় অংশ দর্শক টানতে বেছে নিয়েছে মেলাকে। যে সব পুজোতে মাঠ রয়েছে তারা তো বটেই, যাঁদের কাছে লাগোয়া মাঠ নেই, তাঁরা কাছাকাছি কোনও মাঠকে বেছে নিচ্ছেন। তাঁরা পুজো মণ্ডপ থেকে সুড়ঙ্গ তৈরি করে একটু দূরের ওই মাঠে মণ্ডপ থেকে বার হওয়ার পথ করে দিচ্ছেন। ফলে মণ্ডপে একবার প্রবেশ করলে মেলার মধ্য দিয়েই বার হতে হবে। সুব্রত সঙ্ঘের সভাপতি ভাস্কর বিশ্বাস স্বীকার করেন, সামনে মাঠ থাকায় মানুষ মণ্ডপের উপচে পড়া ভিড়ে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে না থেকেও পুজো সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারেন।’’ পাশের দাদাভাই স্পোর্টিং ক্লাবের সম্পাদক বাবুল পালের দাবি, ‘‘আমাদের এই মাঠ সারা শহর তো বটেই উত্তরবঙ্গের কাছে একটা বাড়তি আকর্ষণ। আগে শুধু এখানেই মেলা বসত। এখন আরও পুজোগুলিতেও মেলার আয়োজন করেছে।’’ রথখোলা স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো কমিটির সম্পাদক গৌতম সাহা জানান, মেলাতে যেমন পুজো দেখার সঙ্গে দর্শকেরা বাড়তি সময় কাটাতে পারেন, তেমনি পুজোর বিশাল খরচের অল্প একটা অংশও উঠে আসে।’’ সেন্ট্রাল কলোনি পুজো কমিটির সদস্য জয়ন্ত দে বলেন, ‘‘অনেকে পুজোর সঙ্গে মেলা উপভোগ করতেই আসেন। সেই জায়গা থেকে আমরা এই ব্যবস্থা রেখেছি।’’

শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ায় দাদাভাই ময়দানে অনেকদিন ধরেই মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। এই মাঠের দু’পাশে দাদাভাই স্পোর্টিং ক্লাব ও সুব্রত সঙ্ঘের পুজোর সঙ্গে অন্যতম আকর্ষণ দু’দিকে দুটো পুজো রেখে মাঝে খানিক বিশ্রাম। হাতের কাছেই সহজলভ্য অনেক ধরণের খাবার ও পানীয়। তাই মেলার চেহারা নেয় গোটা এলাকা। দেশবন্ধুপাড়াতেই ইয়ং মেন অ্যাসোসিয়েশনের মাঠেও পুজোর চারদিনই সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মাঠের আকর্ষণ কম নয়। শক্তিগড় এলাকার সবচেয়ে বড় পুজো উদ্যোক্তা উজ্জ্বল সঙ্ঘ। তাঁদের বাড়তি পাওনা বিশাল মাঠ। এখানেও চারদিনে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। শিলিগুড়ির সবচেয়ে বড় পুজোগুলির অন্যতম সেন্ট্রাল কলোনি সর্বজনীনের মেলা সবচেয়ে বড় আকার নেয় রেলের স্টেডিয়ামের বিশাল এলাকা পাওয়ায়। এখানেও চারদিনই চলে আক্ষরিক অর্থেই মেলা। নাগরদোলা, চরকি, বিভিন্ন শো বা মৃত্যুকুয়ো দেখতে ভিড় উপচে পড়ে। খাবারের দোকানগুলিতে জায়গা পেতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়। বিশাল মাঠে পুজো আয়োজনে মণ্ডপ ও মেলা দুটোরই সুবিধা পান চম্পাসারির জাতীয় শক্তি সঙ্ঘ ও পাঠাগারের পুজো উদ্যোক্তারা। এলাকার একমাত্র বড় পুজো হওয়ায় মানুষের ঢল নামে চারদিনই। শিলিগুড়ির রথখোলা স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠ ছোট হলেও মাঠকে ঘিরে মেলা বসে যায়। তা মাঠ ছাড়িয়ে আসপাশের গলিতেও ঢুকে যায়। সূর্যনগর ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের পুজো যে মাঠে হয়, মেলা সেখানে বসানো হয় না। পাশে খেলার মাঠে চলে মেলা। তাতে অবশ্য দর্শক সমাগমে কোনও খামতি থাকে না।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement