শ্রেণিকক্ষের দখলকে ঘিরে ধন্ধুমার কাণ্ড ঘটেছিল মালদহের মানিকচকের মথুরাপুরের বিএসএস হাইস্কুলে। সেই ঘটনার যাতে পূনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য এক ছাদের তলার থেকে কলেজ সরাতে চলেছে কর্তৃপক্ষ। রবিবার বিকেলে মালদহে মানিকচক কলেজ কর্তৃপক্ষ জুরুরি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই কলেজ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে মানিকচক কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রদ্যোৎ ঘোষ বলেন, ‘‘এ দিন কলেজের কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। আমরা কলেজ অন্যত্র সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিষয়ে জেলা শাসক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। আর আমরা খুব শীঘ্রই নিজস্ব ভবন পেয়ে যাব। তখন আর কোন সমস্যা হবে না। এ দিকে, কলেজ সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে মথুরাপুর বিএসএস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা স্বেচ্ছায় স্কুলে কলেজ করতে দিয়েছিলাম। সময় মতো কলেজ চললে আমাদের আপত্তি নেই। এখন তাঁরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা তাঁদের নিজস্ব ব্যাপার।’’
প্রসঙ্গত, মানিকচকের মথুরাপুরের বিএসএস হাই স্কুলের ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছিল কলেজ। ফলে বছর খানেক ধরে এক ছাদের তলায় চলছিল কলেজ ও স্কুল। গত ৩ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষের দখল নিয়ে ধুন্ধমার কাণ্ড ঘটে স্কুলে। স্কুল ও কলেজে চলে ভাঙচুর এবং পাল্টা ভাঙচুর। স্কুল ও কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের তিনতলার একটি হলঘর নিয়ে বিবাদ তৈরি হয় দুই পক্ষের মধ্যে। এবং সময়ের মধ্যে কলেজ শেষ করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তিন তলার হলঘরটিতে কলেজের পঠন পাঠন চলায় সব সময় সিঁড়ি ঘরের গেটটি হাট করে খোলা থাকে। এতে স্কুলের ছাত্রেরা সেখানে গিয়ে ছোটাছুটি করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করে কর্তৃপক্ষ সেই ঘরের গেটটি বন্ধ রাখার আবেদন জানান। তবে কাজের কাজ কিছু না হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই বন্ধ করে রেখে দেন। এতে কলেজ পড়ুয়াদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রধান শিক্ষকের ঘরে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে স্কুলের ছাত্রেরা। তার পর তারা কলেজের শ্রেণিকক্ষে ব্যপক তাণ্ডব চালায়। অফিস ঘর, গ্রন্থাগার ও টিচার্স কমনরুমের সমস্ত জিনিস নষ্ট করে দেয়। ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করেন। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। ঘটনার দিন থেকেই অনির্দিষ্ট কালের জন্য কলেজ বন্ধের ডাক দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে ঘটনার পরের দিন ৪ সেপ্টেম্বর স্কুলের পড়ুয়াদের উপস্থিতি খুবই কম থাকলেও পঠন পাঠন হয়েছে। বেশকিছু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদিবসের অনুষ্ঠান হয়েছে। দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে স্কুলের পরিবেশ। কলেজ ও স্কুলের ভাঙা অংশগুলি সরানোর কাজ চলছে। দু’দিন ছুটির পর আজ, সোমবার থেকে স্কুলের পঠন পাঠন শুরু হবে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ এ দিন সকল সদস্যকে নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বিএসএস স্কুল থেকে ৫০০ মিটার দুরে রয়েছে মডেল স্কুল। সেই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কম রয়েছে। সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। সেখানে মাস তিনেক পঠনপাঠন চালানোর পর কলেজের নিজস্ব ভবনে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক অপূর্ব চক্রবতী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। আর কলেজ সরানোর বিষয়ে আমাদের কাছে এখনও কিছু জানানো হয়নি। জানানো হলে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।