সপাটে চড়, অভিযোগ বিডিওর নামে

ঘন্টা দু’য়েক দাঁড়িয়ে থাকার পরেও আধার কার্ডের ছবি তুলতে পারেননি ইংরেজবাজারের কাজিগ্রামের বাসিন্দা সহদেব দাস। এরই প্রতিবাদ করতে বিডিও-র কাছে গিয়েছিলেন তিনি। কেন আর ছবি তোলা হবে না জিজ্ঞাসা করতেই ওই যুবককে ইংরেজবাজারের বিডিও পার্থ দে সপাটে চড় মারেন বলে অভিযোগ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৫ ০২:৪৯
Share:

মালদহ মেডিক্যালে সহদেব দাস। —নিজস্ব চিত্র।

ঘন্টা দু’য়েক দাঁড়িয়ে থাকার পরেও আধার কার্ডের ছবি তুলতে পারেননি ইংরেজবাজারের কাজিগ্রামের বাসিন্দা সহদেব দাস। এরই প্রতিবাদ করতে বিডিও-র কাছে গিয়েছিলেন তিনি। কেন আর ছবি তোলা হবে না জিজ্ঞাসা করতেই ওই যুবককে ইংরেজবাজারের বিডিও পার্থ দে সপাটে চড় মারেন বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার দুপুর দু’টো নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে ব্লক অফিসেই। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই অফিস চত্বরে হইচই পড়ে যায়। এদিকে, সহদেব অসুস্থ হয়ে পড়লে ছবি তোলার জন্য আসা অন্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যান মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। বাম কানে আঘাত গুরুতর হওয়ায় এখনও ওই যুবক ভর্তি রয়েছেন মেডিক্যালে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এদিনই বিকেলে বিডিও সহ তাঁর কর্মীদের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সহদেবের পরিবারের লোকেরা।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সহদেব মালদহ কলেজের চুক্তিভিত্তিক চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। তাঁর দাদা যুধিষ্ঠির দাসও কলেজ অডিটোরিয়ামে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করেন। তাঁদের বাড়ি ইংরেজবাজার ব্লকের কাজিগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েতের মোহজমা পুর গ্রামে। ব্লক অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বৃহস্পতিবার করে আধার কার্ডের জন্য ছবি তোলা হয়। এ দিন ছিল কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের ছবি তোলার দিন। এই পঞ্চায়েতের এ দিন থেকেই সেই কাজ শুরু হয়েছে। দৈনিক ১২০ জনের করে ছবি তোলা হয় বলে জানানো হয়েছে ব্লক অফিসে। তবে এদিন ছবি তোলার জন্য প্রায় ৩০০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সহদেববাবুর পরিবারের লোকজনের দাবি, ছবি তোলার জন্য দুপুর ১২টা থেকে তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। লম্বা লাইন থাকলেও কেন ছবি তোলা হবে না এই বিষয়টি জানতেই বিডিও পার্থবাবুর কাছে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, বিডিও-কে প্রশ্ন করতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ শুরু করে দেন। এমনকি দুই কর্মীদের নির্দেশ দেন তাঁকে ধরে নিয়ে আসতে। তারপর সপাটে বাম কানে চড় মারেন বলে অভিযোগ। সহদেব অচৈতন্য হয়ে পড়লে তাঁর গ্রামের লোকেরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

Advertisement

সহদেব বলেন, ‘‘সবাই অনেক ক্ষণ ধরে লাইনে ধৈর্য ধরে দাঁড়িয়েছিল। হঠাৎ করে জানতে পারি এদিন আর ছবি তোলা হবে না। তখন সবাই মিলে আমরা বলতে গিয়েছিলাম। আমি বিডিও সাহেবের ঘরে ঢুকতেই উনি দুই কর্মীকে বলেন আমাকে ধরে থাকতে। এরপর সপাটে চড় মারেন। আমি কোন দোষ করিনি। কেন আমাকে মারা হল বুঝতে পারছি না।’’

ঘটনার পরিপেক্ষিতে ইংরেজবাজার থানায় বিডিও পার্থ দে এবং দুই কর্মীর নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পরিবারের লোকেরা। যুধিষ্ঠির বলেন, ‘‘আমরা কলেজে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছি। কোথাও গিয়ে গোলমাল কখনও করি না। বিডিও সাহেব আমার ভাইকে কেন মারল?’’ তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই বিডিও-র শাস্তি চাই।’’

Advertisement

এই বিষয়ে পার্থবাবুকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। মালদহের জেলা শাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী বলেন, ‘‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’’

আহত কর্মীকে হাসপাতালে দেখতে যান মালদহ কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কালাম মহম্মদ আনুয়ারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘‘ঘটনাটি শুনেই তাঁকে দেখতে হাসপাতালে আসি। ঘটনাস্থলে কী হয়েছিল বলতে পারব না। তবে এই ভাবে মারধর করা উচিত হয় নি। ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। আমরা চাই পুলিশ ঘটনার তদন্ত করুক।’’ মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement