করোনা-আতঙ্ক এ শহরেও। পিটিআইয়ের তোলা প্রতীকী চিত্র।
সার্বিক ভাবে নোভেল করোনাভাইরাস নিয়ে স্বস্তির পরিসংখ্যান বহাল রইল শনিবারও। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, এ দিন করোনা-প্রভাবিত দেশ থেকে কলকাতায় আগত মাত্র তিন জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিন জনই ঘরে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। কাউকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখার প্রয়োজন হয়নি। নতুন করে এক জনের লালা রসের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত যে এগারো জনের নমুনা পুণের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি’ (এনআইভি) এবং কলকাতার ‘নাইসেড’এ পাঠানো হয়েছিল তার মধ্যে দশ জনের শরীরে নোভেল করোনাভাইরাসের কিছু পাওয়া যায়নি। একজনের পরীক্ষার রিপোর্ট আসা বাকি রয়েছে।
শুক্রবার নতুন করে পর্যবেক্ষণে রাখা রোগীর সংখ্যা ৪৫ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫৫। এদিন মাত্র তিনজনের নাম সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। রাজ্যে এনসিওভি’র সংক্রমণের আশঙ্কার প্রেক্ষিতে এই পরিসংখ্যান আপাতত স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের স্বস্তিতে রেখেছে।
এরই মধ্যে এ দিন মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক রোগীর ‘করোনাভাইরাস ২২৯ই’ ধরা পড়ায় শোরগোল তৈরি হয়। যার প্রেক্ষিতে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস একটি বড় ভাইরাস পরিবারের অংশ। চিনে সেই পরিবারের যে সদস্য সকলকে উদ্বিগ্ন করে রেখেছে তা হল, ‘নোভেল করোনাভাইরাস’। ‘করোনাভাইরাস ২২৯ই’এর মতো হিউম্যান করোনাভাইরাস সংক্রমণ নতুন কিছু নয়। এর অস্তিত্ব আগেও ছিল। স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরাও জানিয়েছেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত বা অযথা বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।
আরও পড়ুন: সংক্রমণ ঠেকাতে রাস্তায় রোবট
করোনাভাইরাসের জেরে বেলডাঙা, রেজিনগর, নওদা লাগোয়া চুলের কারবার বন্ধের মুখে। এর জেরে হাজার হাজার মানুষ টানা প্রায় দু’মাস কাজ হারিয়েছেন। নোভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পরে চিনারা ভারতে আসছেন না। তাই ব্যবসায় ভাটা পড়েছে।
এ দিকে জাপানে করোনাভাইরাসের আতঙ্কের জেরে জাহাজে এক রাজ্যবাসী আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। রানাঘাট পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাপস দাস মার্কিন জাহাজের কর্মী। পাঁচ দিন আগে আমেরিকা থেকে জাপানের ইয়াকোহামা বন্দরে তাঁদের জাহাজ এসে পৌঁছলে সেখানে কয়েক জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মেলে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। জাহাজের বাকি কর্মীদের শহরের একটি লজে রাখা হয়েছে বলে তাপসের দাবি। তিনি শনিবার দুপুরে হোয়াটস অ্যাপ মারফত রানাঘাটের প্রতিবেশী অনিমেষ ঘোষকে এই তথ্য জানিয়েছেন। জাহাজ-কর্মীর প্রতিবেশি অনিমেষ ঘোষ এ দিন বলেন, ‘‘তাপসদা তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি ছেলের সব কথা শুনতে পাচ্ছিলেন না। সেই কারণে আজ দুপুরে তাপসদার সঙ্গে কথা বলেছি। উনি সুস্থ রয়েছেন।’’
এদিন স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানান, আজ, রবিবারের পরে চিন থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে আর কোনও বিমান আপাতত আসবে না বলে তাঁরা জেনেছেন। স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন, ‘‘বিমান না এলেও পর্যবেক্ষণ যেমন চলছে চলবে। আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্য দফতরের পরামর্শ মেনে চলুন।’’