নুসরত জাহান। — ফাইল চিত্র।
কলকাতায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দফতরে বুধবার হাজিরা দিতে গেলেন নুসরত জাহান। ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় তাঁকে তলব করা হয়েছিল। সেই তলব পেয়ে বুধবার সল্টলেকে সিজিও দফতরে গেলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ নুসরত। সঙ্গে ছিলেন যশ দাশগুপ্ত। বুধবার সকালে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছোন নুসরত। কোনও কথা বলেননি তিনি। গাড়ি থেকে নেমে যশের সঙ্গে সোজা ইডির দফতরের ভিতরে প্রবেশ করেন। এই মামলায় এর আগেও বসিরহাটের প্রাক্তন সাংসদকে সল্টলেকের দফতরে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
বুধবার সকালে সিজিও কমপ্লেক্সে গাড়ি থেকে নামতেই নুসরতকে ঘিরে ধরেন উপস্থিত সাংবাদিকেরা। সাদা সালোয়ার-কামিজ়, চোখে রোদচশমা পরে সোজা দফতরের ভিতরে চলে যান তিনি। সঙ্গে ছিলেন যশ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি তিনি।
রাজারহাট এলাকায় ফ্ল্যাট দেওয়ার নাম করে যে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালাচ্ছিল ইডি। যে সংস্থা ফ্ল্যাট তৈরি করেছিল, সেখানকার অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন নুসরত। ইডি সূত্রে খবর, গত কয়েক মাস ধরে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট মামলায় বেশ কিছু নতুন তথ্য হাতে এসেছে তাদের হাতে। সেই সূত্রেই নুসরতকে আবার ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে খবর।
কলকাতায় ইডির দফতরে প্রবেশ করছেন নুসরত জাহান। সঙ্গে রয়েছেন যশ দাশগুপ্ত। — নিজস্ব চিত্র।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, নুসরত দিল্লির দফতরে গিয়ে হাজিরা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানান, যে দিন হাজিরা দিতে বলা হয়েছে, সে সময়ে তাঁর দিল্লিতে থাকার কথা। তাই নির্দিষ্ট দিনে যদি তাঁকে দিল্লির দফতরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, ভাল হয়। শেষপর্যন্ত কলকাতায় ইডির দফতরে হাজিরা দিলেন তিনি।
এর আগে ২০২৩ সালে ফ্ল্যাট-প্রতারণা মামলায় নুসরতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। প্রায় ৬ ঘণ্টা অভিনেত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন তদন্তকারীরা। নুসরতদের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট-প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। ইডির কাছে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, ২০১৪-১৫ সালে ৪০০-র বেশি প্রবীণ নাগরিকের থেকে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিল একটি সংস্থা। তাঁদের এক হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের কেউ-ই ফ্ল্যাট পাননি। টাকাও ফেরত পাননি। ওই সংস্থার ডিরেক্টর পদে ছিলেন নুসরত। অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন অভিনেত্রী। ওই সংস্থার ডিরেক্টর পদে থাকার কথাও অস্বীকার করেছিলেন তিনি।