(বাঁ দিক থেকে) বিজেপি বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। গ্রাফিক— শৌভিক দেবনাথ।
পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে আবার হাই কোর্টে গেলেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ ভাঙড়-সহ দুই ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন প্রক্রিয়া ঘিরে অশান্তির কথা জানাতে আলাদা আলাদা ভাবে নবান্ন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিল আইএসএফ এবং বিজেপি নেতারা। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে বিজেপি এবং আইএসএফ ছাড়াও মামলা করেছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল সিপিএম।
গত মঙ্গলবার ভাঙড়ে মনোনয়ন জমা দেওয়া ঘিরে বোমাবাজি এবং গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তার পর উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা যেমন বসিরহাট, ক্যানিং, সন্দেশখালিতেও মনোনয়ন জমা দেওয়া ঘিরে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। বুধবার এই নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি। পরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের গেটের বাইরে মনোনয়ন সংক্রান্ত অশান্তির অভিযোগে বিক্ষোভ দেখান। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নওশাদের সঙ্গে দেখা করেননি। এর পর বৃহস্পতিবার সকালেই বিজেপি, আইএসএফ এবং সিপিএম মনোনয়ন জমা দেওয়ার সমস্যার কথা বলে হাই কোর্টে মামলা করেন। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে ওই মামলা দায়ের হয়। যা একত্রে দুপুর ১২টার সময় শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে খবর।
বৃহস্পতিবারই পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি দিন সময়সীমা বৃদ্ধির সুযোগ আছে বলে আদালতে জানালেও শেষ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও ঘোষণা করেনি। অন্য দিকে, বিরোধীরা দাবি করেছিল, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় ইচ্ছে করেই পাঁচ দিন দেওয়া হয়েছে, যাতে বিরোধীদের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে না পারেন। গত ৯ জুন থেকে শুরু হয়েছিল মনোনয়ন প্রক্রিয়া। তবে তার পর থেকেই মনোনয়ন জমা দেওয়া ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর এসেছে। যার মধ্যে অন্যতম ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড়। বৃহস্পতিবার ভাঙড়ের মতো মনোনয়ন জমা দেওয়া ঘিরে অশান্তির অভিযোগ নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধীরা।