মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে আসছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।—নিজস্ব চিত্র।
কংগ্রেসের বঙ্গব্রিগেড দেখা করল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার দাবিতে বুধবার প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে অধীর চৌধুরী, প্রদীপ ভট্টাচার্য, আব্দুল মান্নান, অভিজিত্ মুখোপাধ্যায়, মৌসম বেনজির নুর, দীপা দাশমুন্সি প্রমুখ নির্বাচন কমিশনে যান। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নসীম জৈদী তাঁদের অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রদেশ নেতৃত্ব।
অধীরবাবুরা জানিয়েছেন, রাজ্যে এই মুহূর্তের পরিস্থিতি সম্পর্কে জৈদীকে অবহিত করা হয়েছে। ভারতী ঘোষ বা নন্দিনী চক্রবর্তীদের মতো অফিসারদের প্রসঙ্গও তোলা হয়। এমনকী, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই যে আইনভঙ্গের নজির তুলে ধরছেন সে সম্পর্কেও কমিশনকে জানানো হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। কমিশন থেকে বেরিয়ে এসে অধীরবাবু বলেন, ‘‘রাজ্যের মানুষের মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে একটা ভয় কাজ করছে। কী ভাবে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়, সেই বিষয়টা কমিশনকে দেখতে অনুরোধ করেছি। কমিশন জানিয়েছে, গোটা বিষয় সম্পর্কে তারা অবগত আছে।’’ তাঁর দাবি, কমিশন জানিয়েছে বাংলার নির্বাচনটা তাদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এবং সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণও করেছে তারা। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান জানান, রাজ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জৈদি আশ্বাস দিয়েছেন।
কমিশনকে রাজ্যের পরিস্থিতি বোঝাতে গিয়ে কংগ্রেস নেতারা এর আগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে শাসক দল কী ব্যবহার করেছিল সে প্রসঙ্গও তোলেন। মীরা পাণ্ডে থেকে সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়— কোন পরিস্থিতিতে তাঁরা কাজ করেছেন সে কথাও বলা হয় বলে অধীরবাবুর দাবি। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, অবাধ নির্বাচন করতে কমিশন কী পদক্ষেপ করছে সে ব্যাপারে কংগ্রেস নেতৃত্বকে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি ‘মাইক্রো ম্যানেজমেন্টের’ কথাও বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে জৈদী বিহার নির্বাচনের কথাও বলেছেন বলে দাবি ওই নেতার। ওই রাজ্যের নির্বাচনে ৯৭ শতাংশ ভোটারের সচিত্র পরিচয়পত্র ছিল। এ রাজ্যেও সেই পথে হাঁটতে চাইছে কমিশন। বেশ কয়েকটি দফায় ভোটগ্রহণের পাশাপাশি দিল্লিতে বসেই ‘জিপিএস’ তথা গ্লোবাল পজিশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে চায় কমিশন। সূত্রের খবর, মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে কোন কোন এলাকা রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতর, সে ব্যাপারে ‘ভালনারেবিলিটি ম্যাপিং’ করা শুরু করে দিয়েছে তারা। এ জন্য লোকসভা ভোটের সময় কমিশনের পর্যবেক্ষকদের দেওয়া রিপোর্ট যেমন বিবেচনা করা হচ্ছে, তেমনই রাজ্যে সাম্প্রতিক পুরসভা ভোটে হিংসার ঘটনা নিয়েও স্বাধীন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করেছে কমিশন।
নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একাধিক জনসভা করে থাকে। যে সমস্ত জায়গায় জনসভা করা হয় তার অনুমতি দেওয়া নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এ বার সেই সমস্যার সমাধানে অনুমতি দেওয়ার গোটা প্রক্রিয়াটাই অনলাইন করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। আবেদন এবং অনুমতি দুটোই অনলাইন হবে। জায়গা ফাঁকা থাকলে আবেদন করা যাবে এবং নিয়ম মেনে অনুমতিও মিলবে। কোন দিন কোন জায়গা কোন রাজনৈতিক দল বুক করেছে, সেটাও দেখা যাবে অনলাইনে।