Narendra Modi on Paschim Banga Divas

‘পুরো বাংলাকে পাকিস্তানে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছিল’! পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব বর্ণনায় মোদী বোঝালেন দেশভাগের প্রেক্ষাপট

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আঁটসাঁট নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে তারকেশ্বরের সভাস্থলকে। প্রচুর পরিমাণে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন রয়েছে এলাকায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১৬:১৪
Share:

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপনে শনিবার তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সঙ্গে থেকে যাওয়ার নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান বোঝালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জানালেন, একটা সময়ে পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছিল। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিল কংগ্রেসও। সেই সময় রুখে দাঁড়িয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপন করতে রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারকেশ্বরের সভামঞ্চে ডোকরার দুর্গামূর্তি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারকনাথের একটি ছবিও প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন তিনি। মোদীর হাতে তুলে দেন রসগোল্লা এবং জলভরা সন্দেশও।

শনিবার দুপুরে দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছোন প্রধানমন্ত্রী। তার পরে সেখান থেকে রওনা দেন হুগলির তারকেশ্বরের উদ্দেশে। বিকেল ৪টের কিছু পরে তারকেশ্বরের সভাস্থলে পৌঁছোয় প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। মু‌খ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই পৌঁছে যান সভাস্থলে। মঞ্চে রয়েছেন রাজ্যপাল আরএন রবিও।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গ দিবস কবে পালিত হবে, তা নিয়ে পূর্বতন সরকারের আমলেই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালন করা হত। তবে সরকার বদলের পর স্থির হয়েছে ২০ জুনই পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হবে। উল্লেখ্য, এই ১৯৪৭ সালে এই দিনেই পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পাশ হয়েছিল বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায়। তার নেপথ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের।

প্রাদেশিক আইনসভার ওই সিদ্ধান্তকে স্মরণীয় করে রাখতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ২০ জুন দিনটি পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার তারকেশ্বরের সভায় পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপনের পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদের অবদানকেও বিশেষ ভাবে স্মরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আঁটসাঁট নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে তারকেশ্বরের সভাস্থলকে। প্রচুর পরিমাণে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন রয়েছে এলাকায়। রাজ্যে পালাবদলের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাতেও কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার তথা রাজ্যের শাসকদল বিজেপি। মঞ্চসজ্জার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মঞ্চ সাজাতে তাইল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে অ্যান্থোরিয়াম। তামিলনাড়ুর উটি থেকে আনা হয়েছে জারবেরা এবং লিলি। এ ছাড়া, পাঁচ রকমের গোলাপ, ব্লু ডেইজ়ি, রজনীগন্ধা, গাঁদার মতো ফুলও রয়েছে।

মোদীর সভাস্থলের দু’পাশে দু’টি করে মোট পাঁচটি হ্যাঙারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভাস্থল সাজিয়ে তোলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যের ছোঁয়ায়। কলকাতার হলুদ ট্যাক্সি থেকে শুরু করে হাতে টানা রিক্সা, দক্ষিণেশ্বরের মন্দির, বেলুড় মঠের ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে গোটা চত্বর। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে শনিবার সকালেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী লেখেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই রাজ্য সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে।’’

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে ওই পোস্টে মোদী লিখেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসাবে থাকবে। এর নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান ছিল। ২০২৬ সালে আমরা তাঁর ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী পালন করছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement