ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
ঘণ্টাখানেক গোল হয়ে বসে আড্ডা। গাছতলায় হতে পারে। হতে পারে পুকুরপাড়ের প্রশস্ত চাতালে। পাঁচিলঘেরা উঠোনে বা বাড়ির বারান্দায় চাটাই পেতেও বসা যেতে পারে। সে সব নেহাতই অমিল হলে কিছু চেয়ার আর একখানা টেবিল জোগাড় করে নিতেও আপত্তি নেই। তবে ‘মেজাজ’ থাকবে আড্ডার। থাকবে চায়ের কাপে চুমুক। বিস্কুট তো থাকবেই। সঙ্গে ঝুড়িতে শিঙাড়া হলেও মন্দ নয়। মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার গোটা মরসুমটা এ ভাবেই কাটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা।
পরীক্ষার সময়ে দেদার আড্ডা! শুনে অবাক লাগতে পারে। কিন্তু এ আড্ডা পরীক্ষার্থীদের নয়। যাঁরা কয়েক বছর আগে ওই সব পরীক্ষার বয়স পেরিয়ে এসেছেন, তাঁদের জন্য।
গোটা ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে চলবে বোর্ডের পরীক্ষা। ২ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত মাধ্যমিক। তার পরে ২৭ তারিখ পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক। ভোটমুখী রাজ্যে রাজনীতির কণ্ঠস্বর ইতিমধ্যেই উচ্চকিত। কিন্তু পরীক্ষার মরসুমে উচ্চগ্রামে মাইক বাজানোয় বিধিনিষেধ থাকবে। তাই ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে নৈঃশব্দ্য বহাল থাকবে গোটা রাজ্যে। কিন্তু তা বলে তো প্রচার বা জনসংযোগ বন্ধ রাখা যায় না। অতএব অন্য উপায় খুঁজে মাঠে নামছে বিজেপির যুব সংগঠন। মাইক বাজবে না। স্লোগানও উঠবে না। শুধু ছোট ছোট জমায়েত করে ঘণ্টাখানেক ‘আড্ডা’ হবে।
কর্মসূচির নাম ‘যুব আড্ডা’। উত্তরপ্রদেশে ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার আগে এ ভাবেই রাজ্য জুড়ে ‘যুবা চৌপাল’ আয়োজন করেছিল বিজেপি। গ্রামে গ্রামে যুবসমাজকে ডেকে নিয়ে ‘চৌপালে’ বসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সরকারের ব্যর্থতা আলোচনা করা হয়েছিল। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বয়স তখন মাত্র বছর তিনেক। সেইটুকু সময়েই মোদী উত্তরপ্রদেশের জন্য কী কী করেছেন, সে সব নিয়ে কথা হয়েছিল। বিজেপি উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় এলে কী কী করার পরিকল্পনা রয়েছে, তারও উল্লেখ ছিল। বছর দশেক পরে উত্তরপ্রদেশের সেই ‘যুবা চৌপাল’ পশ্চিমবঙ্গে আসছে ‘যুব আড্ডা’ নাম নিয়ে। শহর থেকে মফস্সল, ছোট্ট পৌর শহর থেকে পঞ্চায়েতি গণ্ডগ্রাম, সর্বত্র সেই ‘আড্ডা’ আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য যুবমোর্চা।
প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০-২৫টি করে ‘আড্ডা’ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে ১০-১২টি করে বুথের জন্য একটি করে ‘আড্ডা’। জমায়েত ২৫, ৩০ বা ৫০ জনের। যুবমোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁয়ের কথায়, ‘‘বড় সভায় যা কথা হয়, সে সব নিয়ে আলোচনা ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থিতিয়ে আসে। তাই আমরা চাইছি, ওই আলোচনাগুলো পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে দিতে। যাঁরা বড় জনসভায় এসেছিলেন, তাঁরা পাড়ায় ফিরে গিয়ে ওই কথাগুলো বলবেন, সে ভরসায় থাকতে চাইছি না। সংগঠন সরাসরি দলের কথাগুলো নীচের তলায় নিয়ে যাবে। তারই আয়োজন করছি।’’
গত ডিসেম্বর থেকেই মণ্ডল স্তরের পথসভা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করেছিল বিজেপি। তার পরে শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, বিপ্লব দেব, দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিংহদের দিয়ে গোটা রাজ্যে ‘পরিবর্তন সঙ্কল্প সভা’ করানো হয়েছে। সে সব সভায় বিজেপি নেতৃত্ব মূলত বর্তমান রাজ্য সরকারের ‘অপশাসন, দুর্নীতি এবং তোষণনীতি’র বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগের কথাও বলেছেন। মোদীর সরকার পশ্চিমবঙ্গকে ইতিমধ্যেই কী কী দিয়েছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী করবে, সে সব প্রতিশ্রুতি শুনিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি জুড়ে যে ‘যুব আড্ডা’ চলবে, সেখানেও এ সব কথাই হবে। কিন্তু ঘরোয়া ভঙ্গিতে। হাতে হাতে লিফলেটও দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে যে সব চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা যুবমোর্চা নিয়েছে, সেই ‘পোস্টকার্ড’গুলিতে ইচ্ছুক তরুণদের স্বাক্ষরও ওই ‘আড্ডা’স্থলে নেওয়া হবে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন রাজ্য কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন যে, যুব এবং মহিলা কর্মী বাড়াতে হবে। যুবমোর্চা নেতৃত্ব মনে করছেন, এই ‘যুব আড্ডা’ সেই লক্ষ্য পূরণে বড় ভূমিকা নেবে বলেই দাবি যুবমোর্চার।