ভিলেজ পুলিশে কর্মরত মধুসূদন কর্মকারকে পদ দিয়েছে তৃণমূল। —নিজস্ব ছবি।
কলকাতা পুলিশ যখন কর্মীদের সামাজমাধ্যম ব্যবহারেই ১৫ দফা আচরণবিধি বেঁধে দিচ্ছে, ঠিক তখনই এক ভিলেজ পুলিশকে শাসকদলের ব্লক সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে জোর রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হল বাঁকুড়ায়। অভিযোগ, ভোটের আগে পুলিশকর্মীকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছে তৃণমূল।
সিমলাপাল ব্লকের বিক্রমপুর গ্রামের ভিলেজ পুলিশ হিসাবে ২০১২ সাল থেকে কর্মরত মধুসূদন কর্মকার। শুক্রবার তৃণমূলের সিমলাপাল ব্লক কমিটির প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, সেই মধুসূদনই তৃণমূলের ব্লক সাধারণ সম্পাদক পদে। এক ভিলেজ পুলিশ কী ভাবে রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিজেপির খোঁচা, শাসকদল এবং পুলিশ এক এবং অভিন্ন, তারই প্রমাণ মিলল।
২০১২ সালে ভিলেজ পুলিশের চাকরি পান সিমলাপাল ব্লকের বিক্রমপুর গ্রামের যুবক মধুসূদন। স্থানীয়দেক দাবি, পুলিশের কাজ করলেও তৃণমূলের নানা মিটিং-মিছিলে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা যেত। তবে এতদিন কোনও পদে ছিলেন না। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এতে দোষের কিছু দেখছেন না। সিমলাপাল ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সৌমেন পাত্রের মন্তব্য, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে রাজ্য জুড়ে উন্নয়নে যে কর্মযজ্ঞ চলছে, তাতে শামিল হতে বিভিন্ন পেশার মানুষ তৃণমূলে এসেছেন এবং আসছেন। মধুসূদনও তাঁদেরই একজন। তাঁকে দলের ব্লক কমিটির সাধারণ সম্পাদক করার ক্ষেত্রে সমস্যার তো কিছু নেই!’’ পাল্টা বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি দেবাশিস দত্তের কটাক্ষ, ‘‘আমরা তো বলেই আসছি, এ রাজ্যে তৃণমূল এবং পুলিশ এক হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনা তারই অন্যতম উদাহরণ।’’ সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য অভয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘তৃণমূল ও পুলিশ আলাদা নয়। ভিলেজ পুলিশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তরের পুলিশ আধিকারিক সকলেই হয় তৃণমূলের কর্মী, নয়তো দলদাস।’’
সংশ্লিষ্ট বিতর্কে তালড্যাংরার তৃণমূল বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহ বাবুর গলায় সামান্য দ্বিধার সুর। তিনি বলেন, ‘‘ঘটনার কথা শুনেছি। এখনও পর্যন্ত দলের সিমলাপাল ব্লক কমিটির পদাধিকারীদের তালিকা আমার দেখা হয়নি। যদি সেখানে ওই ভিলেজ পুলিশের নাম থেকে থাকে তা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য দলের ব্লক সভাপতিকে অনুরোধ করা হবে।’’ ‘বিতর্কিত’ মধুসূদনের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।