দুমড়ে: বেলিয়াতোড়ের বনগ্রাম মোড়ের কাছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত পিকআপ ভ্যান। নিজস্ব চিত্র
ফের হাইওয়েতে দু’টি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাঁকুড়ায় প্রাণ গেল দু’জনের। আহত হলেন চার জন যাত্রী।
সোমবার সকালে বাঁকুড়া-দুর্গাপুর ৯ নম্বর রাজ্য সড়কের বেলিয়াতোড় থানার বনগ্রাম মোড় সংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আনাজ বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের। ঘটনাস্থলেই পিকআপ ভ্যানের খালাসি বড়জোড়ার বাসিন্দা শংকর সিংহ (৩০) ও এক আরোহী বেলিয়াতোড়ের জন্দার বাসিন্দা সুধীর মাজি (৬০)-র মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হন পিকআপ ভ্যানের আর চার আরোহী জন্দার বাসিন্দা কালীপদ মাজি, অজয় মাজি, বাঁকুড়া সদর থানার পলাশডাঙার বাসিন্দা পরিতোষ জানা ও বেলিয়াতোড়ের শিরসাড়ার দীপক আট্টা। তাঁদের বাঁকুড়া মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।
এ দিনই বিষ্ণুপুরের মড়ার এলাকায় স্কুলের সামনে চলন্ত ট্রাক্টরের ডালা থেকে খুলে আসা চাকার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় এক ছাত্র।
শনিবার রাতে বাঁকুড়া-খড়্গপুর ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের বিষ্ণুপুর থানার খড়িকাশুলি গ্রামের কাছে একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় একটি গাড়ির। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গাড়ির মধ্যে থাকা এক চার বছরের এক শিশু ও গাড়ি চালকের। ওই ঘটনার জন্য রাস্তার পরিকাঠামোকে দায়ী করেছিলেন বাসিন্দারা। এ দিনের দুর্ঘটনার জন্য গাড়ির গতিবেগকেই প্রাথমিক ভাবে দায়ী করছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওন্দার নিকুঞ্জপুর থেকে ওই পিকআপ ভ্যানটিতে আনাজ নিয়ে বড়জোড়ার দিকে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ীরা। সেই সময় দুর্গাপুরের দিক থেকে দু’টি ট্রাক তীব্র বেগে একে অপরকে ওভারটেক করতে করতে বাঁকুড়ার দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় পিকআপ ভ্যানটি একটি ট্রাকের সামনে পড়ে গেলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রাক চালককে পুলিশ আটক করেছে।
এ দিন সকালেই বিষ্ণুপুরের মড়ার সম্মিলনী হাইস্কুলের সামনে ট্রাক্টরের ট্রলির চাকা খুলে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়। ফিরোজ মণ্ডল নামে লাউবাগান গ্রামের বাসিন্দা ওই ছাত্রকে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফিরোজের কথায়, ‘‘টিফিনে স্কুল থেকে বেরিয়ে সাইকেল নিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিলাম। হঠাৎ দেখি একটি বড় চাকা আমার দিকে তীব্র গতিতে ছুটে এল। কিছু বোঝার আগেই চাকাটা সজোরে ধাক্কা মেরে আমাকে সাইকেল-সহ মাটিতে আছড়ে ফেলল। তারপর কিছু মনে নেই।’’ হাসপাতাল সূত্রে খবর, ছাত্রটির বাঁ পায়ে উরুর নীচে গভীর ভাবে কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। তবে অবস্থা স্থিতিশীল।
বিষ্ণুপুর ট্রাক্টর অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি জয়ন্ত দে বলেন, ‘‘আমরা ওই ট্রাক্টরের মালিককে ছাত্রটির চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে বলেছি।’’ বিষ্ণুপুরের এসডিপিও লাল্টু হালদার বলেন, ‘‘শীঘ্রই ট্রাক্টর মালিকদের নিয়ে আমরা গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আলোচনায় বসব। নিয়ম কানুন না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’