BJP MLA Niladri Sekhar Dana

যানজটে বিরক্ত বিধায়ক গাড়ি থেকে নেমেই নির্দেশ দিলেন ক্লাব-দোকান ভেঙে ফেলার! হুঁশিয়ারি প্রশাসনকেও

রবিবার দুপুরে বাঁকুড়ার কাঞ্চনপুর এলাকায় একটি কর্মসূচি সেরে স্কুলডাঙা দিয়ে নিজের দফতরে ফিরছিলেন বিজেপি বিধায়ক। যানজট দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন তিনি। পকেট থেকে বার করেন মোবাইল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১৭:৫০
Share:

স্কুলডাঙার রাস্তায় যানজটে আটকে থাকার পর বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। —নিজস্ব চিত্র।

রাস্তায় যানজটের কারণ খুঁজতে গিয়ে ‘অবৈধ ভাবে নির্মিত’ ক্লাব ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। বাঁকুড়া শহরের স্কুলডাঙা এলাকায় রাস্তার পাশে গজিয়ে ওঠা ওই নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু দোকানও তুলে দিতে বলেন বিধায়ক। এ জন্য তিনি নিজেই ফোন করেন প্রশাসনিক কর্তাদের।

Advertisement

বাঁকুড়া শহরের স্কুলডাঙার রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সারাক্ষণই যান চলাচল হয়। ওই রাস্তা দিয়েই অহরহ রোগী নিয়ে যাতায়াত করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের অ্যাম্বুল্যান্সগুলো। রাস্তার দু’ধারে রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অফিস। সে জন্য ছাত্রছাত্রী থেকে চাকরিজীবীদের ভিড় লেগেই থাকে। কয়েক বছর আগে ওই এলাকায় গির্জা সংলগ্ন রাস্তার একাংশ দখল করে একটি ক্লাব তৈরি হয়। শোনা যায়, সেখানকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার মদতে ‘বেআইনি নির্মাণ’ গড়ে ওঠে। ক্লাব তৈরি হতেই রাতারাতি বেশ কয়েকটি দোকানও বসে যায় আশপাশে। বিধায়ক নীলাদ্রির দাবি, ওই কারণে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। সর্বদা যানজট লেগে রয়েছে।

রবিবার দুপুরে বাঁকুড়ার কাঞ্চনপুর এলাকায় একটি কর্মসূচি সেরে স্কুলডাঙা দিয়ে নিজের দফতরে ফিরছিলেন বিধায়ক। যানজট দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন তিনি। তার পর কার্যত রণংদেহী মেজাজে দেখা যায় নীলাদ্রিকে। দ্রুত রাস্তার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় কয়েক জন ব্যবসায়ীকে নির্দেশ দেন বিধায়ক। সেখান থেকে তিনি ফোন করেন জেলা প্রশাসনের কোনও আধিকারিককে। মোবাইল কানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘বেআইনি ভাবে রাস্তা দখল করে ওই ক্লাবটি গড়ে ওঠার জন্য রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। প্রায় যানজট হচ্ছে। আজই ওই ক্লাব ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে আমি নিজেই গাঁইতি-কোদাল নিয়ে এসে এই ক্লাব ভেঙে দেব।’’ জানা গিয়েছে, ওই আধিকারিক বিষয়টি তখনই দেখার আশ্বাস দিলে ফোন রেখে দেন বিধায়ক।

Advertisement

ক্লাব ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার পর বিধায়কের মন্তব্য, ‘‘সরকারি রাস্তা তো কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এখানে কোনও অবৈধ নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। জেলা প্রশাসনকে আমি ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। তার মধ্যে এই ক্লাব-সহ দোকানগুলি সাফ করে দিতে হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পূর্ত দফতরের রাস্তা নির্দিষ্ট সীমানা পর্যন্ত পুরোপুরি ফাঁকা থাকবে। যারা এলাকায় এখনও দাপট দেখাচ্ছে, তাদের আমি জেলের ভাত খাওয়াব। জনগণের সম্পত্তি লুট করে যারা, তাদের সম্পত্তিনিলাম করার ব্যবস্থা করব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement