নিজস্ব চিত্র
তৃণমূলের পতাকা টোটোতে লাগিয়ে গ্রাম ঘুরলেন বিজেপি সমর্থকরা। গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর জন্য ক্ষমাও চাইলেন তাঁরা। প্রায় ৩০-৩৫ জনের একটি দল কার্যত মিছিল করে গণ ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন। লাভপুরের বিপ্রুটিকুরি এলাকার এই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনীতিতে। বিজেপি অভিযোগ করছে, নিজের গড়ে পেশিশক্তির প্রদর্শন করে অনুব্রত ও তাঁর সঙ্গীরা বিজেপি কর্মীদের দল ছাড়তে বাধ্য করেছে। পাল্টা তৃণমূলের বক্তব্য, শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ায় বিজেপি ছেড়ে দেওয়ার ধুম লেগেছে। তৃণমূল কাউকে জোর করেনি।
নির্বাচনের আগে, পরে বার বার অশান্ত হয়েছে নানুর, লাভপুর। নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিংহের কাছে বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ মণ্ডল পরাস্ত হওয়ার পর থেকে তাদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। অসংখ্য দলীয় কর্মী ঘরছাড়া বলেও দাবি করা হয় গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকে। কিন্তু মঙ্গলবারের ঘটনা একেবারে অভূতপূর্ব। বিজেপি কর্মীরা টোটোয় তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করলেন স্থানীয় চৌমাথা থেকে গ্রামের রাস্তায় রাস্তায়। ঘোষণা করা হল, ‘‘বিধানসভা ভোটের সময় রাজ্য সরকার ও পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজ সম্পর্কে মিথ্যা প্রচার করেছি। উত্তেজনার সৃষ্টি করেছি। মিথ্যা অপবাদ ও কুকীর্তির জন্য গ্রামবাসীদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। শপথ করছি, এমন ভবিষ্যতে কোনও দিন করব না। গ্রামবাসীদের কাছে ভুল স্বীকার করছি। আমরা যাতে তৃণমূলে যোগ দিতে পারি, উন্নয়নে শামিল হতে পারি, তার আবেদন করব বিধায়ক মহাশয়ের কাছে। মা মাটি মানুষ জিন্দাবাদ।’’
ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপি-র জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা জানিয়েছেন, ‘‘রাজ্য জুড়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ যে একেবারেই নেই, এই ঘটনা তা প্রমাণ করে। লাভপুর ও নানুরে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। যাঁরা ঘরছাড়া, তাঁদের ফিরলে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে। বাড়ির লোকের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। প্রশাসন নিরব। প্রশাসনকে বলব, গণতন্ত্রকে বাঁচান।’’ স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুদীপ্ত ঘোষের দাবি, ‘‘এ বছরের নির্বাচনে মিথ্যা কথা, আর ধোকাবাজির উপরে হয়েছে। এখন অনেকে যে ভুল বুঝতে পারছে, পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছে, তা দেখে ভাল লাগছে। বিজেপি থেকে অনেক বিধায়কও চলে আসবেন। কারণ, ওদের সংগঠন নেই, মানুষের জন্য কিছু করেনি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কোনও মানে হয় না।’’