প্রতীকী ছবি
ফের বাইরে থেকে জেলায় ফেরা অসুস্থ যুবককে পুরুলিয়া মেডিক্যালে নিয়ে যেতে প্রত্যাখ্যান করার অভিযোগ উঠল গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে। এ বার ঝালদা মহকুমা এলাকার ঘটনা।
মুম্বইয়ে কাজ করেন ওই যুবক। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে খবর, তিনি বাড়ি ফেরেন ৬ মার্চ। সর্দিকাশি এবং জ্বরের উপসর্গ নিয়ে শুক্রবার গিয়েছিলেন বাঘমুণ্ডি এলাকার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। উপসর্গ দেখে ঝুঁকি নিতে চাননি ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। তাঁরা সেই যুবককে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু ‘রেফার’ করলে কী হবে? উপসর্গ দেখে অনেক গাড়ি চালকই তাঁকে পুরুলিয়া নিয়ে যেতে রাজি হননি বলে অভিযোগ। শেষমেষ পুলিশের হস্তক্ষেপে একটা মাতৃযানে সওয়ার হয়ে পুরুলিয়ার পথে রওনা দেন ওই যুবক। এসডিপিও (ঝালদা) সুমন্ত কবিরাজ বলেন, ‘‘অনেকেই ওই যুবককে নিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না। শেষে এক মাতৃযানের চালককে বুঝিয়ে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়ে পুরুলিয়ায় ওই যুবককে পাঠানো হয়।’’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার অনেকেই রুটিরুজির টানে ভিন্ রাজ্যে কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে ওই যুবক মুম্বই থেকে কাজে কয়েক দিন ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছিলেন। এ দিন ওই সমস্ত উপসর্গগুলি নিয়ে বাড়ির কয়েকজনের সঙ্গে ওই যুবক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। সেখানকার ডাক্তার ওই যুবক মুম্বই থেকে এসেছেন শুনে আর ঝুঁকি নিতে চাননি। বাঘমুণ্ডির ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রামকৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘‘ওই যুবকের উপসর্গ দেখে তাঁকে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। পরে মাতৃযানটি ‘স্যানিটাইজ়’ করা হয়েছে।’’
যুবককে পুরুলিয়া পৌঁছে দেওয়া মাতৃযানের চালক বলেন, ‘‘ছোটগাড়ির চালকেরা কেউই রাজি ছিলেন না। আমি ওই যুবককে পৌঁছে দিয়েছি। পুলিশ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে আমাকে যে যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলি নিতে বলেছিল, তা নিয়েছিলাম।’’
বুধবার রাতে পুরুলিয়া জেলারই আর এলাকার দুবাই ফেরত যুবকের গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে শুনে স্থানীয় গাড়ি চালকেরা তাঁকে পুরুলিয় মেডিক্যালে নিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না। শেষে সেখানকার এক মাতৃযান চালক তাঁকে নিয়ে যান। তাঁকেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে পাঠানো হয়েছিল।