Coronavirus

পরোয়া না করে ভিড় প্রশিক্ষণে

বুধবার বিষ্ণুপুরের রাজ দরবার সংলগ্ন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘উৎকর্ষ বাংলা’-র প্রশিক্ষণকেন্দ্র  খোলা হয়েছিল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২০ ০৮:৪৭
Share:

ঠাসা: মাচানতলা মোড়ে সাবান বিলি করছেন অরূপ চক্রবর্তী। নিজস্ব

নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ভিড় বা জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই আদালতে পুলিশ ফাইল ছাড়া, বাকি কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে। এমনকি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রেখে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এত কিছুর পরেও অবশ্য নানা জায়গায় নিয়ম না মানতে দেখা গেল বুধবার। কোথাও সরকারি প্রকল্পের প্রশিক্ষণকেন্দ্র চলল, কোথাও রাজনৈতিক দলগুলি ‘মাস্ক’ আর সাবান বিলি করতে নেমে লোকজন জড়ো করল। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সতর্কীকরণ নিয়েই।

Advertisement

বুধবার বিষ্ণুপুরের রাজ দরবার সংলগ্ন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘উৎকর্ষ বাংলা’-র প্রশিক্ষণকেন্দ্র খোলা হয়েছিল। ওই কেন্দ্রে ‘বিউটিশিয়ান কোর্স’-এর প্রশিক্ষণ ও ‘টেলারিং’ শেখানো হয়। এ দিন ৩০ জন মহিলা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অনেকেই দূর দূরান্তের ব্লক থেকে ভিড় বাসে চড়ে এসেছেন। বসেছেন পাশাপাশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাশের জনের সঙ্গে এক মিটারের দূরত্ব ছিল না।

কী ভাবে হল এমন?

Advertisement

সংস্থার সেন্টার ইন-চার্জ মানস নন্দী বলেন, “আমাদের কাছে প্রশিক্ষণ বন্ধের কোনও লিখিত নির্দেশ আসেনি। রাজ্য সরকারের কারিগরি দফতরের উদ্যোগেই এই প্রশিক্ষণ শিবির চালানো হয়। বিভিন্ন এলাকার মহিলারা স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে নিখরচায় এই সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতিদিন অনলাইন হাজিরা দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। নির্দেশ ছাড়া, সেন্টার বন্ধ করার উপায় নেই আমাদের।”

‘উৎকর্ষ বাংলা’-র বিষ্ণুপুর মহকুমার প্রকল্প ম্যানেজার রাহুল খানও বলেন, “প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার জন্য রাজ্য দফতর থেকে কোন নির্দেশ পাইনি। পেলেই বন্ধ রাখা হবে।” বুধবার সকালে ‘টেলারিং’ প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিলেন ইন্দাস, জয়পুর, ময়নাপুর, বিষ্ণুপুরের অনেকে। তাঁদের কয়েক জন বলেন, ‘‘আর কয়েক দিনের প্রশিক্ষণ বাকি রয়েছে। শিবির চললে আমাদের আসতেই হয়। আতঙ্কিত হয়েও করার কিছুই নেই।”

মহকুমাশাসক (বিষ্ণুপুর) মানস মণ্ডল বলেন, ‘‘বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’ বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (‌জেলা পরিষদ) শঙ্কর নস্কর বলেন, “নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সমস্ত ধরনের সরকারি জমায়েত বন্ধ। এমনকি, আমরা বৈঠকও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছি। সেখানে উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের প্রশিক্ষণ শিবির কী ভাবে চলছে তা নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি।”

বুধবার নোভেল করোনাভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পথে নামে তৃণমূল-বিজেপি। তৃণমূলের তরফে বাঁকুড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে সাবান বিলি করা হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের মেন্টর অরূপ চক্রবর্তী, বাঁকুড়ার পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত, উপপুরপ্রধান দিলীপ আগরওয়াল প্রমুখ। অন্য দিকে, শহরে বিজেপির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নীলাদ্রিশেখর দানার নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় ‘মাস্ক’ বিলি করা হয়। দু’টি কর্মসূচিতেই ভিড় দেখা গিয়েছে। করোনা সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে রাজ্য যেখানে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে, সেখানে শাসক দলের তরফে এমন কর্মসূচি নেওয়া হল কী করে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

মহাপ্রসাদবাবুর দাবি, “দলীয় কর্মী খুবই কম সংখ্যায় ছিলেন। মানুষজন এসে আমাদের কাছ থেকে সাবান নিয়ে যাচ্ছিলেন। ফলে, জমায়েত তেমন হয়নি। সরকারি নির্দেশ অমান্য হয় এমন কাজ করিনি।” নীলাদ্রিশেখরবাবুরও দাবি, “আমাদের কর্মসূচিতে হাতে গোনা কিছু বিজেপি কর্মী ছিলেন। ভিড় এড়িয়েই গোটা কর্মসূচি করেছি।” জেলা পরিষদের মেন্টর অরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘বৃহস্পতিবার থেকে বাঁকুড়া পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে দলীয় কর্মীরা সাবান পৌঁছে দিয়ে আসবেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement