নতুন আক্রান্ত মিলছেই, চিন্তা

গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই আক্রান্তের হদিস মিলছে। গত ১২ জুন পুঞ্চায় পাঁচ আক্রান্তের সন্ধান মেলে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২১ ০৬:২০
Share:

মাস্ক পরায় ঢিলেমি। রঘুনাথপুরে মঙ্গলবার। নিজস্ব চিত্র।

কমছে ‘অ্যাক্টিভ’ রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তের হারও নিম্নগামী। তবে পুরুলিয়া পুর-এলাকা- সহ জেলার বিভিন্ন ব্লকে আক্রান্তের ক্রমাগত হদিস মেলায় উদ্বিগ্ন জেলা স্বাস্থ্য দফতর। বিশেষজ্ঞদেরও সতর্কবাণী, স্রেফ পরিসংখ্যানে চোখ রেখে কোভিড-বিধি মেনে চলার প্রশ্নে সামান্য ঢিলেমি বিপদ বাড়াতে পারে।

Advertisement

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের একটি সূত্র জানাচ্ছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় ‘অ্যাক্টিভ’ রোগীর সংখ্যা ১০৯। আক্রান্তের হার নেমেছে ১ শতাংশেরও নীচে। জেলা জুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা একশোর সামান্য কিছু বেশি হলেও গত এক সপ্তাহে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ জন। তবে গত এক সপ্তাহে এমন একটি দিনও নেই, যেখানে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি।

সংক্রমণ ছড়ানোর পর থেকেই পুরুলিয়া পুর-এলাকার সঙ্গে কাশীপুর, রঘুনাথপুর ২, রঘুনাথপুর ১, পুরুলিয়া ১, পুরুলিয়া ২, বলরামপুর, পুঞ্চা-সহ কয়েকটি ব্লক প্রথম সারিতে থাকলেও চলতি মাসের গোড়া থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। গত ১ জুনের পরিসংখ্যান অনুয়াযী, কাশীপুর, হুড়া, মানবাজার ২, পুরুলিয়া পুর-এলাকা ও রঘুনাথপুর ১-এ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল পঞ্চাশের বেশি। কয়েকটি ব্লকে তা ছিল আরও কম। তার পরের এক সপ্তাহে সংক্রমণ আরও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

Advertisement

কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই আক্রান্তের হদিস মিলছে। গত ১২ জুন পুঞ্চায় পাঁচ আক্রান্তের সন্ধান মেলে। গত তিন দিনে পুরুলিয়া পুর-এলাকা, রঘুনাথপুর ১, বান্দোয়ান, জয়পুর, নিতুড়িয়া, মানবাজার ১, সাঁতুড়ি ব্লক থেকে নতুন করে আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে, যা নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্য দফতর।

এক বিশেষজ্ঞের কথায়, ‘‘জেলায় আক্রান্তের হার এক শতাংশের নীচে। কড়াকড়ির শুরুতে মানুষ নিয়ম মেনে চলায় সংক্রমণ কমেছে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, একাংশের মধ্যে কোভিড-সতর্কতা মেনে চলার প্রশ্নে ঢিলেমি দেখা করা যাচ্ছে। এটা যত বাড়বে, সংক্রমণ কিন্তু ফের ছড়াবে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এর পরে যখন পরিবহণ স্বাভাবিক হবে, ফের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে। তাই পরিসংখ্যানে চোখ রেখে ঢিলেমি মনোভাব বিপদ ডেকে আনতেই পারে।’’

পুরুলিয়া মেডিক্যালের চিকিৎসক নয়ন মুখোপাধ্যায়ও জানান, সংক্রমণ শীর্ষে ওঠার আগেও দেখা গিয়েছি, পুরুলিয়া শহর-সহ জেলার অনেক জায়গায় অনেকে কোভিড-বিধি মেনে চলছেন না। বাজার-হাটে থিকথিকে ভিড়। যথারীতি আড্ডা চলছিল। মাঝে এমন দৃশ্যে রাশ পড়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তাঁর কথায়, ‘‘এখন দেখছি, শহর ফের আগের চেহারায় ফিরতে শুরু করেছে। তবে মনে রাখতে হবে, আক্রান্তের সংখ্যা কিন্তু এখনও শূন্যে নামেনি। আর করোনাও কিন্তু এখনও বিদায় নেয়নি। সতর্কতা মেনে চলার তাই এখনও কোনও বিকল্প নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement