বধূর অপমৃত্যু, পুনর্তদন্তের নির্দেশ

এক বধূর অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশি তদন্তে সন্তুষ্ট হতে না পেরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর মা। এ বার সেই মামলার শুনানিতে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্তাকে দিয়ে ঘটনার পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জুলাই ২০১৬ ০২:৫৭
Share:

এক বধূর অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশি তদন্তে সন্তুষ্ট হতে না পেরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর মা। এ বার সেই মামলার শুনানিতে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্তাকে দিয়ে ঘটনার পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

Advertisement

মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এই নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী সৌগত মিত্র। তিনি জানিয়েছেন, পুরুলিয়া সদর থানা এলাকার এক গৃহবধূর গত ১৬ এপ্রিল ঝাড়খণ্ডের বোকারোর এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়। কিন্তু মৃত্যুর পরে ওই বধূর দেহের ময়নাতদন্ত হয়নি। তাই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বধূর বাপের বাড়ির লোকজন সন্দিহান। বধূর মা পুরুলিয়া শহরের শশধর গঙ্গোপাধ্যায় রোডের বাসিন্দা নাসিমা খাতুন মেয়ের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

সৌগতবাবু জানান, ২০১২ সালে নাসিমার একমাত্র মেয়ে সানার বিয়ে হয় পুরুলিয়া সদর থানা এলাকাতেই। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে নাসিমার অভিযোগ। গত ১৫ এপ্রিল মেয়ে অসুস্থ এই খবর শুনে তিনি শ্বশুরবাড়িতে মেয়েকে দেখতে যান। তিনি জানাচ্ছেন, গিয়ে দেখেন তাঁর মেয়ে শুয়ে রয়েছে, মুখে রক্তের দাগ। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা জানিয়েছিল, সানা জ্বরে ভুগছে। সে দিনই তাঁকে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় সে দিন তাঁকে ঝাড়খণ্ডের বোকারোতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পরের দিন তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন মৃতদেহ নিয়ে এসে কবর দেন।

Advertisement

কিন্তু মৃতদেহের কোনও ময়নাতদন্ত করা হয়নি। নাসিমা জানাচ্ছেন, মেয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক বলে মানতে পারছেন না। তাই মেয়ের মৃত্যুর কারণ জানতে চেয়ে ও সঠিক তদন্তের দাবিতে তিনি জেলার পুলিশ সুপারকে চিঠি লেখেন। তার ভিত্তিতে অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ সানার অপমৃত্যুতে একটি মামলা রুজু করে। সৌগতবাবু জানান, ৪৯৮-এ ও ৩০৪-এ এই দুই ধারায় পুলিশ মামলা রুজু করেছে। সানার দাদা মেহফুজ আলম বলেন, ‘‘আমরা বোনের মৃত্যুর কারণ জানতে চাই। কারণ ওর দেহের ময়নাতদন্তই হয়নি। ফলে তদন্ত কেমন হবে নিশ্চিত নই। সে কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।’’

মঙ্গলবারই ছিল এই মামলার শুনানি। সৌগতবাবু বলেন, ‘‘প্রথম শুনানির দিনই আদালত পুলিশ সুপার বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কোনও অফিসারকে দিয়ে পুনরায় মামলার তদন্ত শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছে। মামলায় ৩০৪ বি ধারা যোগ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই বোর্ড সানার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখবে। চার সপ্তাহ পরে ফের এই মামলার শুনানি হবে। তার আগেই সানার মৃত্যুর সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট আদালতে জমা করারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।’’

পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার রূপেশ কুপার বলেন, ‘‘মৃত বধূর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তও করছে। এর মধ্যে হাইকোর্ট রিপোর্ট চেয়েছিল। তা পাঠিয়েছিলাম। তবে এ দিন হাইকোর্ট কিছু নির্দেশ দিয়েছে কি না জানি না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement