West Bengal Elections 2026

ভোটের দায়িত্ব এড়ানোর জের, আইনি পদক্ষেপ

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ছিল, কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে ভোটপ্রক্রিয়ায় রাখা যাবে না।

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৪
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে কোনও অজুহাতকে ঢাল করে রেহাই পাবেন না কোনও সরকারি কর্মী। আগেই তা স্পষ্ট করেছিল নির্বাচন কমিশন। এ বার ভোটকর্মী হিসাবে নিয়োগপত্র নিয়েও প্রশিক্ষণ নিতে না আসা এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে নিয়োগপত্র গ্রহণ না করার কারণে দেড় শতাধিক কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছে জেলা নির্বাচনী দফতর।

জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, এই দুই গোত্রে থাকা শ’দেড়েক কর্মীকে আগেই শো-কজ় করা হয়েছিল। এ বার আইনি পদক্ষেপের চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রশাসনের কোপে পড়া সেই তালিকায় ব্যাঙ্ককর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদের কর্মীরা আছেন। ওই আধিকারিক জানান, আইনি পদক্ষেপ ছড়াও ওই কর্মী যে দফতরে কর্মরত, সেই দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও উক্ত কর্মী বা আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে সুপারিশ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ছিল, কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে ভোটপ্রক্রিয়ায় রাখা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের এ হেন নির্দেশের কারণেই বাস্তবে ভোটের কাজে সমস্যা বেড়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে দাবি। বিশেষ করে পুরুষ ভোটকর্মীদের প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয়েছে জেলা নির্বাচনী দফতরকে। যে সংখ্যক ভোটকর্মী প্রয়োজন, তার তুলনায় সংখ্যা কম থাকায় মহিলা কর্মীদের উপর ভরসা করতে হয়েছে প্রশাসনকে। তবু রিজার্ভে কর্মী সঙ্কট ছিল। ফলে, চাইলেই কর্মীদের কোনও অজুহাতে রেহাই দেওয়ার অবস্থায় ছিল না প্রশাসন।

চলতি মাসের প্রথমেই ভোটকর্মীদের সঙ্কট সামলাতে জেলাশাসকদের বার্তা পাঠিয়ে ছিলেন রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সেখানে একগুচ্ছ নির্দেশের পাশাপাশি বলা হয়েছে, ভোটকর্মীদের অব্যাহতি এবং ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিচারবুদ্ধি সহকারে করতে হবে এবং তা শুধুমাত্র অনির্বায কারণ ও বিরলতম ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কমিশনের সেই কড়া মনোভাবের জেরেই যে সব কর্মী চিঠি পেয়েও প্রশিক্ষণে আসেননি বা ইচ্ছে করে ভোটকর্মী হিসেবে নিয়োগপত্র নেননি, তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে।

প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট বীরভূমে। জেলার স্থায়ী বুথ ৩০৭৬টি। তার সঙ্গে ১২০০-র বেশি ভোটার রয়েছে এমন ১৮০টি অতিরিক্ত বুথ মিলিয়ে মোট বুথের সংখ্যা ৩২৫৬টি। প্রতি বুথে চার জন (প্রিসাইডিং অফিসার, ফার্স্ট পোলিং, সেকেন্ড ও থার্ড পোলিং অফিসার) করে ভোটকর্মী রিজার্ভে আরও ২০ শতাংশ ধরলে সংখ্যাটি সাড়ে পনেরো হাজার পেরিয়ে যায়। কিন্তু রিজার্ভে যে সংখ্যক কর্মী প্রয়োজন সেই সংখ্যক কর্মী নেই। পুরুষ ভোটকর্মীর অভাবে মহিলা বুথের সংখ্যা ৩৫০টি করতে হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, ২৯০৬টি পুরুষ পরিচালিত বুথের জন্য পুরুষ ভোটকর্মীর সংখ্যা ১৩৩৯১ এবং ৩৫০টি মহিলা বুথের জন্য ১৮৫১ ভোটকর্মী রয়েছেন। সংখ্যাটা নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট সংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। তাই সুষ্ঠু ভোট করানো কার্যত চ্যালেঞ্জ। তবে প্রশাসনের দাবি, তারা প্রস্তুত। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, এই পরিস্থিতিতে যাঁরা দায়িত্ব এড়ালেন কমিশনের নির্দেশেই তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন