প্রতীকী ছবি
লালারসের নমুনা দেওয়ার পরেও দু’দিন ধরে রোগী দেখা এবং রবিবার রাতে রিপোর্ট পজ়িটিভ জানার পরে ১৬ ঘণ্টা তাঁর খোঁজ না-পাওয়া। সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের এমন আচরণে হতবাক বীরভূম জেলা স্বাস্থ্য দফতর। জেলা সদর সিউড়ির ঘটনা। সোমবার দুপুর একটার পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে বোলপুর কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করানো গিয়েছে। কিন্তু তার আগে কারা কারা তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন, কত রোগী দেখেছেন—সে হিসেব কষতেই কপালে ভাঁজ চওড়া হচ্ছে প্রশাসনের।
বীরভূম স্বাস্থ্য জেলার সিএমওএইচ হিমাদ্রি আড়ি বলছেন, ‘‘যে কেউ কোভিড আক্রান্ত হতে পারেন। হতে পারে তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। কিন্ত এক জন চিকিৎসক হয়ে যে কাজ তিনি করেছেন, সেটা অন্যায় এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।’’
ওই চিকিৎসক মহম্মদবাজার ব্লক হাসপাতালে কর্মরত। এ ছাড়া দিঘল গ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বেও রয়েছেন। সিউড়ি শহরে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। মহম্মদবাজার ও সিউড়ির বেশ কয়েকটি জায়গায় তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। কর্মক্ষেত্রে ‘কাজের মানুষ’ এবং এলাকায় ‘রোগী দরদি’ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।
সিউড়ি জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদবাজারে এক কোভিড পজ়িটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসায় ওই চিকিৎসক ২৫ তারিখ সিউড়ি হাসপাতালে এসে লালারসের নুমুনা দেন। রবিবার রাত আটটা নাগাদ জানা যায়, তাঁর রিপোর্টও পজ়িটিভ। কিন্তু, লালারসের নমুনা দেওয়ার পরে মহম্মদবাজার ও সিউড়িতে একাধিক চেম্বারে অনেক রোগী তিনি দেখেছেন। ওষুধের দেকানের মালিক-সহ প্রচুর মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন। রবিবার রাতে রিপোর্ট জানার পর থেকেই ওই চিকিৎসকের খোঁজ পাচ্ছিল না স্বাস্থ্য দফতর। পুলিশ গিয়েও তাঁর নাগাল পায়নি। সোমবার সকালেও তাঁর খোজ পায়নি পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর। পরে দুপুর ১২টার পরে ওই চিকিৎসকে সিউড়ি জেলা হাসপাতালের আইসোলেসন ওয়ার্ডের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকেই তাঁকে বোলপুর পাঠানোর ব্যবস্থা হয়। জানা যায়, তিনি ভাড়া বাড়ি থেকে সিউড়িতেই শ্বশুরবাড়িতে চলে গিয়েছিলেন।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলছেন, ‘‘ওঁকে বোলপুরে পাঠাতে চেয়েছিলাম। প্রয়োজনে হোম আইসোলেশনে রাখার ভাবনা ছিল। কিন্তু সে-সব না শুনে তিনি কার্যত পালিয়ে বেড়ালেন।’’ জেলা হাসপাতাল তথা বোলপুর কোভিড হাসপাতালের সুপার শোভন দে বলেন, ‘‘হতে পারে উনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। কিন্তু বহুবার বলা সত্ত্বেও হাসপাতালে ভর্তি হতে অনেক সময় নষ্ট করেছেন।’’
এ দিন সিউড়ি হাসপাতালে দাঁড়িয়ে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘‘এত দিন সামনে থেকে রোগীদের পরিষেবা দিয়েছি। আমি উপসর্গহীন। চেয়েছিলাম হোম আইসোলেশনে থাকতে। আমি তো অরপাধী নই যে, পুলিশ আমাকে খুঁজবে!’’ যা শুনে সিএমওএইচের মন্তব্য, ‘‘রোগের নাম যে কোভিড, সেটাও তো তাঁকে মাথায় রাখতে হবে।’’