পাত্রসায়েরের গরুরহাটের সভায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ছবি: শুভ্র মিত্র।
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আলুচাষিদের সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ উস্কে উত্তরপ্রদেশের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেন যোগী আদিত্যনাথ। রবিবার পাত্রসায়রের গরুহাটে সোনামুখী, ইন্দাস ও বড়জোড়া কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্যে ‘রাজনৈতিক সন্ত্রাস কবলিত’ পাত্রসায়রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের কর্মী সুমন বাউরিকে গুলি করা হয়েছিল। স্বরূপ ঘোষ, পলাশ ঘোষ, উৎপল দাসের মতো কর্মীদের ঘর উজাড় করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের গুন্ডারা সুশোভনের (দত্ত) হাত কেটে দিয়েছে। পাত্রসায়রের কোণায় কোণায় এমন অগণিত উদাহরণ ছড়িয়ে আছে।”
২০১৯ সালে পাত্রসায়রের কাঁকরডাঙা মোড়ে রাজনৈতিক মিছিলে গোলমালে গুলিবিদ্ধ হয় স্কুল ছাত্র সুমন বাউরি। এ ছাড়া, গত বছর একটি যাত্রার আসরে তৃণমূল ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে মারামারি হয়। তার জেরে এক তৃণমূল কর্মীর হাতের আঙুল কেটে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে। বিজেপিও পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্বরূপ-সহ এক বিজেপি কর্মীর ঘর ভাঙচুর ও এক বিজেপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের অভিযোগ তোলে।
তৃণমূল আমলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে দাবি করে তিনি জানান, বাংলার মতো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বছর আট-নয় আগে উত্তরপ্রদেশেও ছিল। সেখানে উৎসব, অনুষ্ঠানে দাঙ্গা হত। কারফিউ লেগে থাকত মাসের পর মাস। গুন্ডা-মাফিয়াদের সরকার চলত। তবে তাঁর দাবি, “এখন আর তোষণ নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তুষ্টি রয়েছে। ‘নো কারফিউ, নো দাঙ্গা, ইউপিতে (উত্তরপ্রদেশে) সব চাঙ্গা’। ডবল ইঞ্জিন সরকার বলেই তা সম্ভব হয়েছে।”
এর পরে রাজ্যে কৃষকদের সমস্যা নিয়ে সরব হন যোগী। দু’রাজ্যের আলুর দর তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলার কৃষক, বিষ্ণুপুরের কৃষক অন্ন উৎপাদন করে ভারতের পেট ভরান। তাঁরা আমাদের অন্নদাতা। কিন্তু চাষি ফসলের ঠিকমতো দাম পাচ্ছেন না। আলুর দাম উত্তরপ্রদেশে ১৫-১৬ টাকা কিলো। আর বাংলায় তা এক থেকে দেড় টাকা! তৃণমূল সরকারের মদতে কৃষকদের শোষণ হচ্ছে।”
বিজেপি সরকার গঠিত হলেই রাজ্যে প্রকৃত উন্নয়ন হবে বলে দাবি করেন তিনি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ রচনার সার্ধশতবর্ষ পূর্তির এই বছরে রাজ্যেও পরিবর্তন হবে বলে জানান তিনি। পাল্টা যোগীকে কটাক্ষ করে বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “উত্তরপ্রদেশে গুন্ডারাজ, মাফিয়ারাজ কেমন চলে, তা গোটা দেশ জানে। ওখানে মেয়েদের কোনও নিরাপত্তা নেই। দলিতদের কোনও অধিকার দেয় না যোগীর বিজেপি সরকার। ওই রাজ্যের কৃষকদের আত্মহত্যার কথাও কারও অজানা নয়।”
এ দিন যোগীর সভায় প্রায় বারো হাজার মানুষের ভিড় হয়েছিল বলে দাবি করেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। যদিও তৃণমূলের দাবি, মাঠে তেমন ভিড় ছিল না।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে