ওন্দার ফুটবল ময়দানের সভায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: অভিজিৎ সিংহ
বিজেপির দখলে থাকা দুই কেন্দ্রে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিজেপির দখলে থাকা ওন্দা ও ছাতনা বিধানসভা কেন্দ্রে সভা করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার ওই দুই কেন্দ্রে গিয়ে বিজেপিকে বিঁধলেন মমতা।
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন থেকেই ওন্দা ও ছাতনায় বিজেপি এগিয়ে। ২০২১ সালে দুই কেন্দ্র থেকেই বিজেপির বিধায়ক হয়। বিজেপি ইস্তাহারে জানিয়েছে, লক্ষ্মীর ভান্ডারের ১৫০০/ ১৭০০ টাকার বদলে অন্নপূর্ণা ভান্ডারে ৩০০০ টাকা, যুব সাথীর ১৫০০ টাকার বদলে যুব শক্তি প্রকল্পে ৩০০০ টাকা দেবে। রাজ্যে চালু অন্যান্যা প্রকল্পের ধাঁচেই আরও কিছু ক্ষেত্রে বেশি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
মমতা ওন্দায় দাবি করেন, ‘‘বিজেপি মিথ্যা কথা বলছে। দিল্লিতে বলেছিল, ভোটের আগে টাকা দেবে। দু’বছর ভোট হয়ে গিয়েছে, দেয়নি। মুম্বইয়ে বলেছিল ৩০০০ টাকা দেব। ১৫০০ টাকাও দেয়নি। আর বিহারে মহিলাদের মিথ্যা কথা বলল। ৮০০০ টাকা এক বার দিল। যেই ভোট হয়ে গেল, জিতে গেল, পরের দিন তাঁদের উপরে সব বুলডোজ়ার চালিয়ে দিল। এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছে, টাকা ফেরত দাও। আমার সময় নেই, না হলে ভিডিয়ো ক্যাসেটটা আপনাদের শুনিয়ে দিতাম।’’ কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে তাঁর অভিযোগ, ‘‘‘যুবকদের ভাঁওতা দিয়ে বলছে লক্ষ লক্ষ শূন্যপদ পূরণ করে দেবে। তুমি রেলে ক’টা শূন্যপদ পূরণ করেছ? গ্যাংম্যান পর্যন্ত নেই রেলে।’’
দলীয় প্রার্থীদের জেতাতে মমতা ওন্দায় বলেন, ‘‘অনেক দিন আগে অরূপ (খাঁ) এখান থেকে জিতেছিল। গতবারে আমরা জিতিনি। কিন্তু এ বার মনে রাখবেন, তৃণমূলের জেতার থেকেও বড় আপনার বাড়িটা থাকবে কি না, আপনার ঠিকানা, ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ, লক্ষ্মীর ভান্ডার, কৃষক বন্ধু, যুবশ্রী থাকবে কি না।”
ওন্দার বিজেপি প্রার্থী অমরনাথ শাখার পাল্টা অভিযোগ, “তৃণমূল শাসনে যে রাহাজানি ওন্দার মানুষ দেখেছেন, তা অতীতে কখনও ঘটেনি। মানুষের জমি কেড়ে নেওয়া, চাকরির নামে প্রতারণা, পঞ্চায়েত দখল, রাজনৈতিক সন্ত্রাস— কী হয়নি? তৃণমূল শাসনেই মানুষ বিপন্ন।”
ছাতনায় মমতা বলেন, ‘‘মা-বোনেরা এ বার তো আমাদের দিন। না হলে বিজেপি সব কেড়ে নেবে। এসআইআর করে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে।” বিজেপি রাজ্য ভাগ করার বিল আনতে চলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বলেন, “ এর পর ডিলিমিটেশন করছে, বিল আসছে। বাংলাটাকে টুকরো টুকরো করবে। জানি না কোন রাজ্যের সঙ্গে কোন রাজ্যকে মেলাবে। হতে পারে বাংলার কিছু অঞ্চল বিহারে, ওড়িশায় মিলিয়ে দিল। যাতে সেখানে গিয়ে আপনারা অত্যাচারের মুখে পড়েন। আমাদের সরকার থাকাকালীন আমি ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না, এনআরসি করতে দেব না।’’ পাল্টা ছাতনার বিজেপি প্রার্থী সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় বলেন, “কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আর কত মিথ্যা বলবেন মুখ্যমন্ত্রী!’’
ছাতনার প্রার্থী স্বপনকুমার মণ্ডল মঞ্চে তৃণমূলনেত্রীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে গেলে বিব্রত হয়ে উল্টো দিকে ঘুরে যান। মমতা প্রার্থীকে নির্দেশ দেন, মাটিতে মাথা ঠেঁকিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রণাম করতে। তিনি বলেন, “মানুষ ছাড়া আমি কিছু বুঝি না। মানুষকে প্রণাম করা মানেই আমাকে প্রণাম করা।” প্রার্থী নেত্রীর কথা শোনেন।
অমিত শাহ ও মমতার সভার মধ্যে কোথায় বেশি ভিড় হয়েছে, তা নিয়ে চর্চা চলেছে বিভিন্ন মহলে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ‘‘দুই সভাতেই ২০ হাজার মানুষ এসেছিলেন। যদিও বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের দাবি, “শাহজির সভার ভিড় ও মেজাজের আশপাশেও দাঁড়াবে না তৃণমূলের দু’টি সভা।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে