হুঙ্কার ছিল ১১ শূন্যের! হল ৯-২!
অবশ্যই সন্তোষজনক ফল। তবুও কোথাও যেন কাঁটার মতো বিঁধছে। জেলায় নানুর ও হাঁসন এই দুই বিধানসভা হেরেছে তৃণমূল। নানুরের হারের পর্যালোচনা রিপোর্ট ইতিমধ্যে দলের অন্দরমহলে জমা পড়েছে। হাঁসন বিধানসভা হারের পর্যালোচনা রিপোর্ট এক মাসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। রবিবার বোলপুরে গীতাঞ্জলি হলে দলীয় ব্লক নেতৃত্ব, বিধায়ক, পুরসভার পুরপ্রধান, উপপুরপ্রধান এবং বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক, চেয়ারম্যানদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে হাঁসন বিধানসভা হারের পর্যালোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন সিউড়ির বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়, ময়ূরেশ্বর বিধায়ক অভিজিৎ রায়, নলহাটি পুরসভার পুর প্রধান রাজেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ এবং দলের রামপুরহাট মহকুমা পর্যবেক্ষক ত্রিদিব ভট্টাচার্য। দলীয় সূত্রে খবর, ওই কমিটি শুধু যে একমাসের মধ্যে হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের হারের ফল পর্যালোচনা রিপোর্ট জমা দেবে তাই নয়, ওই কমিটিকে মুরারই বিধানসভা কেন্দ্রেও জয়ের ব্যবধান কেন কম তার রিপোর্টও এক মাসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার আশিসবাবু সকালে কলকাতা যাওয়ার পথে বলেন, ‘‘হাঁসন বিধানসভা আমাদের জেতার কথা ছিল। আবার মুরারই বিধানসভা কেন্দ্রে আমাদের জয়ের ব্যবধান আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। এই দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল বুথ ভিত্তিক কর্মীদের সঙ্গে বসে পর্যালোচনা করার জন্য জেলা স্তরে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই মতো দলীয় স্তরের বুথ ভিত্তিক কর্মীদের সঙ্গে বসে রিপোর্ট তৈরি করা হবে।”
ঘটনা হল যে কমিটি তৈরি হয়েছে হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের পাঁচ বারের বিধায়ক অসিত মালের পরাজয়ের কারণ খুঁজতে, তাতে তাঁকেই রাখা হয়নি। কী বলছেন অসিতবাবু?
তিনি বলেন, ‘‘দলের জেলা সভাপতির নির্দেশে জেলা নেতৃত্ব কমিটি গঠন করেছে। আর হারের পর্যালোচনা বা রিপোর্ট পেশ এ সমস্ত কিছু বিষয় নিয়ে তো রবিবার বোলপুরে জেলা সভাপতি যা বলার বলে দিয়েছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমার পক্ষে কিছু না বলাই ভাল।”
আবার হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটে অন্তর্ঘাতের অভিযোগে যে দু’জন তৃণমূল নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে তারা নলহাটি ২ ব্লকের বাসিন্দা। এক্ষেত্রে যতটা না অন্তর্ঘাতে বা দল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে, দলের একাংশ বলছেন, ব্লক সভাপতি বিভাস অধিকারীর প্রভাব আরো বেশি কায়েম করার সুযোগ করে দিলেন দলের জেলা সভাপতি। রামপুরহাট ২ ব্লকের ৯ টি অঞ্চলেও তৃণমূলের ফল খারাপ হলেও সেখানেও ব্লক স্তরে নেতৃত্বের কোনও রদবদল এখনই করেননি অনুব্রত মণ্ডল। একই ভাবে মুরারই বিধানসভা ক্ষেত্রে তৃণমূল প্রার্থী আব্দুর রহমানের মাত্র ২৮০ ভোটে জয়ী হলেও মুরারই বিধানসভার অধীন মুরারই ১ ব্লক ও মুরারই ২ ব্লক নেতৃত্বের কোনও রদবদল ঘটাননি জেলা নেতৃত্ব।
তৃণমূলের মুরারই ২ ব্লক সভাপতি আবু বাক্কার বলেন, ‘‘এই বয়সে আমার কর্মক্ষমতা এবং সাংগঠনিক কার্যকলাপে দলের জেলা সভাপতি আমার প্রশংসায় করেছেন। তবে এটা সত্যি, মুরারই বিধানসভা কেন্দ্রে জোট শক্তি মিলিত ভাবে কাজ করেছে। তার জন্য ফল খারাপ হয়েছে।’’