ঘরের ছেলে হয়ে থাকতে চান। তাই গাজন কমিটির ডাকে উৎসবের মঞ্চে উঠে তিনি পাঁচ বছর সঙ্গে থাকার জন্য ‘আশীর্বাদ’ চেয়ে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ। আর তাতেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে’ ছবির নায়ক তথা বড়জোড়া কেন্দ্রের তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী। শুক্রবার সন্ধ্যায় বড়জোড়ার জগন্নাথপুরের একটি গাজনের মেলায় যান সোহম। অভিযোগ সেখানে তিনি মঞ্চে উঠে বলেন, “আমি ঘরের ছেলে হিসেবে এসেছি। আপনারা আশীর্বাদ করলে আমি পাঁচ বছর আপনাদের সঙ্গে থাকব।” অনেকে এই বক্তব্য মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করেন। দ্রুত তা ছড়িয়েও পড়ে। তা নজরে আসতেই সিপিএম সোহমের বিরুদ্ধে শনিবার বড়জোড়া ব্লক অফিসে লিখিত ভাবে নির্বাচনী বিধি ভাঙার অভিযোগ জানায়। বড়জোড়া কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার সুকুমার বৈদ্য বলেন, “নির্বাচনী বিধি কার্যকর হওয়ার পরে কোনও অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের উদ্বোধন করতে ডাকতে পারে না। বিদায়ী বিধায়ককে ডাকা হয়েছিল। সোহমও সেখানে রাজনৈতিক কথা বলেছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। গাজন মেলা কমিটি ও তৃণমূলের ব্লক সভাপতিকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছি।’’ তিনি জানান, গাজন কমিটি জবাব দিয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, বিধায়ক থাকলেও সোহম কোনও রাজনৈতিক কথা বলেনি। অনুমতি ছাড়া প্রচার চালানো নিষেধ। ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও এ ভাবে গিয়ে প্রচার করতে পারেন না প্রার্থীরা। আমরা তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে লিখিত ভাবে কারণ জানতে চেয়েছি।” সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সুজয় চৌধুরী বলেন, “তৃণমূল ভোটে জিততে মরিয়া হয়ে পড়েছে। তাই নিয়ম কানুন কিছুই মানছে না। এই কাজ করার জন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বড়জোড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি জহর বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, “আমাকে প্রশাসন শোকজ করেছে। কিন্তু সোহম তো ওই মেলায় ভোটের প্রচার করেননি। উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এই অভিযোগ তুলছে সিপিএম। আমাদের প্রার্থী কোনও নিয়ম ভাঙেননি। যা জানানোর প্রশাসনকে আমি জানাব।” সোহমের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।