Basanta Utsav in Sonajhuri

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরিতে এ বারও রং খেলা যাবে না! দোলে দু’দিন বন্ধ থাকছে হাট

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এ বছর ৬ মার্চ ঘরোয়া পরিবেশে (শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ সদস্যদের জন্য) বসন্ত উৎসব পালন করবে, যেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৯
Share:

দোলে বন্ধ থাকবে সোনাঝুড়ি হাট। — ফাইল চিত্র।

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটে এ বারও দোল খেলা যাবে না। আগামী ৪ এবং ৫ মার্চ হাট বন্ধ থাকবে। সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাট কমিটি। এতে পর্যটকেরা যদিও নিরাশ হচ্ছেন।

Advertisement

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বেশ কয়েক বছর ধরেই দোলের দিন সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নেই। ২০১৯ সালের পর থেকে বিশ্বভারতীতে দোলের দিন উন্মুক্ত বসন্ত উৎসব নিষিদ্ধ। ২০২৩ সালে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকায় স্থান পায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন। তার পরে বসন্ত উৎসব নিয়ে কড়াকড়ি আরও বেড়ে যায়। ফলে পর্যটকেরা এখন দোলের দিন ভিড় করেন সোনাঝুরি জঙ্গলের খোয়াই হাটে। সেখানে দোলের দিনে হাজার হাজার মানুষ আবির, রং খেলে বসন্ত উৎসব পালন করতেন।

গত বছর হাটে দোল খেলা নিষিদ্ধ করেছিল বন দফতর। ভিড় এবং পরিবেশ দূষণ এড়াতে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যদিও সেখানে দোল খেলার অভিযোগও উঠেছিল। এ বার এক পরিবেশকর্মীর আবেদনের ভিত্তিতে তা বন্ধ হচ্ছে। পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত সোনাঝুরির খোয়াই হাট নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে (ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল) মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বনভূমিতে বেআইনি ভাবে চলছে হাট এবং দোলের দিনে ভিড়ভাট্টা, আবির-রং খেলার জন্য জঙ্গলের পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

Advertisement

এর পরেই বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনকে চিঠি দিয়ে দোলের দিন সোনাঝুরি জঙ্গলে ‘অরণ্য-বহির্ভূত কার্যকলাপ’ বন্ধের আবেদন জানান সুভাষ। তিনি সতর্ক করে দেন যে, যদি রঙ খেলা হয় তা হলে সেই ছবি আদালতে পেশ করবেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোনাঝুরি হাট কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আগামী ৪ এবং ৫ মার্চ (দোল ও বসন্ত উৎসব উপলক্ষে) হাট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

হাট কমিটির পক্ষ থেকে বোলপুর বন দফতরের রেঞ্জারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং এই চিঠির অনুলিপি বীরভূম জেলাশাসককেও পাঠানো হয়েছে। এক ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘‘আমরা হাট বন্ধ রাখছি। এর পর সোনাঝুরি হাট এবং এলাকায় কী ভাবে রং খেলা নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটা প্রশাসন ঠিক করবে।’’ তারা পরিবেশ রক্ষার পক্ষে থাকার কথাও জানিয়েছেন।

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এ বছর ৬ মার্চ ঘরোয়া পরিবেশে (শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ সদস্যদের জন্য) বসন্ত উৎসব পালন করবে, যেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য এবার শান্তিনিকেতনে দোলের আমেজ অনেকটাই কমে যাবে। পরিবেশ রক্ষা ও ঐতিহ্যের মধ্যে ভারসাম্যের এই প্রচেষ্টা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement