ঝড়ে উড়ে গিয়েছে ঘরের চালের একাংশ। বোলপুরের বাহিরী এলাকায়। নিজস্ব চিত্র।
কয়েক মিনিটের ঝড়। তাপমাত্রা কমিয়ে স্বস্তি দিলেও বেশ কয়েকটি গ্রামকে লন্ডভন্ড করে দিল। কোথাও চালা উড়ল, কোথাও গাছ ভাঙল, কোথা উপড়ে পড়ল বিদ্যুতের খুঁটি। সোমবার সন্ধ্যায় এমন অবস্থা হল বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের বোলপুর, সত্তোর, ইলামবাজার, নানুর, কীর্ণাহার এলাকায়। পাশাপাশি, সোমবারের বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে সিউড়ি ১ ও ২ নম্বর ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামেরও। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে দ্রুত জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে ব্লক প্রশাসন।
স্থানীয়েরা জানান, সোমবারের ঝড়ের দাপটে বোলপুর, বাহিরি, পাঁচশোয়া, সাত্তর, কঙ্কালীতলা, রায়পুর-সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাহিরি-পাঁচশোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বহিরি, পাঁচশোয়া, আমিনপুরের মতো গ্রামের। ঝড়ে ইলামবাজারের নওডাঙ্গাল এলাকা বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে বাড়ির টিন ও খড়ের চাল উড়ে গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে একাধিক গাছ। বিদ্যুতের খুঁটিও হেলে পড়েছে। গ্রামগুলিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
শান্তিনিকেতনের আশেপাশে চলছে ঝড়ের তাণ্ডব। সেখানেও ঝড়ে বেশ কিছু বড় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপরে যায়। যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের তরফে ভেঙে গাছ কেটে ও বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। ঝড়ে বাড়ির চাল উড়ে যাওয়ায় সারারাত অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কাটাতে হয়েছে ইলামবাজারের নওয়াডাঙাল গ্রামের বাসিন্দা লালন মিঁয়া, বাবলু মিঁয়া, রহমান শেখদের। লালন মিঁয়া, রহমান শেখরা বলেন, “কোনওরকমে চাষবাস করে সংসার চলে। ঝড়ে বাড়ির চাল উড়ে গিয়ে আসবাব নষ্ট হয়েছে। প্রশাসন যেন পাশে দাঁড়ায়।’’
বোলপুর শ্রীনিকেতন ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকেই সোমবারের ঝড়ে কম করে ১৫০টি কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি, অসংখ্য গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পরেছে। বোলপুর-শ্রীনিকেতনের বিডিও অর্পিতা চৌধুরী বলেন, “কোথায়, কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তার একটি রিপোর্ট তৈরি করে জেলায় পাঠানো হচ্ছে। যাতে ক্ষতিগ্রস্তেরা সরকারি সাহায্য পান।”
একই ভাবে সোমবার সন্ধ্যার ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সিউড়ি ১ ও ২ নম্বর ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামে। জানা গিয়েছে, সিউড়ি ১ ব্লকের চন্দনপুর-সহ একাধিক গ্রামে ও সিউড়ি ২ ব্লকের কোমা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কোমা, জানুরি-সহ একাধিক গ্রামে কোথাও বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে, কোথাও একাধিক গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। চন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা জেনি অঙ্কুর বলেন, ‘‘অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। কী ভাবে সামলাবো বুঝে উঠতে পারছি না।’’ সিউড়ি ১ ও ২ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু বিক্ষিপ্ত ঝড়ের খবর আমাদের কাছে এসে পৌঁছছে। এ নিয়ে পুরো রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হচ্ছে। এ দিন বিজেপির তরফে উৎপলহরি মণ্ডল-সহ কয়েকজনের একটি প্রতিনিধি দল সিউড়ি ২ ব্লকের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলি ঘুরে দেখেন। সাঁইথিয়া ব্লকের মণ্ডল ৬-এর সভাপতি উৎপল বলেন, “ঘুরে দেখলাম। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাঁইথিয়ার বিধায়ককে জানাব।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে