সিউড়ি-কলকাতা রুটে ভাড়া কমল ৫০ টাকা

সদর্থক পদক্ষেপ হলেও, মাত্র ৫০ টাকা ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্তে খুশি নন সিউড়ির বাসিন্দারা। তাঁরা বলছেন, ‘‘নন এসি বাসে জেলা সদর থেকে কলকাতা যাতায়াতের খরচ ৩৭০ টাকা। সেখানে এসি বাসে যাতায়াতের জন্য খরচ ৯২০ টাকা।’’ বাসভাড়া ৪০০ টাকার মধ্যেই থাকুক চাইছেন সিউড়িবাসী।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

সিউড়ি শেষ আপডেট: ১০ অগস্ট ২০১৮ ০৮:৪০
Share:

ফাঁকা: সিউড়ি-কলকাতা এসি বাসের হাল এখন এমনই। —নিজস্ব চিত্র।

সিউড়ি-কলকাতা এসি ভলভো বাসের ভাড়া ৫০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকারি পরিবহণ সংস্থা ডব্লিউবিটিসি (পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ নিগম)। সংস্থার এক কর্তা বলেন, ‘‘যাত্রীদের অসুবিধার কথা ভেবে ভাড়া পুনর্মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে, সিউড়ি-কলকাতা বাসভাড়া ৫১০ টাকার বদলে ৪৬০ নিতে হবে। বৃহস্পতিবার থেকেই সেটা কার্যকর করা হয়েছে।’’

Advertisement

সদর্থক পদক্ষেপ হলেও, মাত্র ৫০ টাকা ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্তে খুশি নন সিউড়ির বাসিন্দারা। তাঁরা বলছেন, ‘‘নন এসি বাসে জেলা সদর থেকে কলকাতা যাতায়াতের খরচ ৩৭০ টাকা। সেখানে এসি বাসে যাতায়াতের জন্য খরচ ৯২০ টাকা।’’ বাসভাড়া ৪০০ টাকার মধ্যেই থাকুক চাইছেন সিউড়িবাসী।

যাত্রাপথ ও বাসের কোনও পরিবর্তন না করে, শুধু বাসের গায়ে ‘বাংলাশ্রী’ স্টিকার সেঁটে কিছু দিন আগে সিউড়ি থেকে কলকাতাগামী সরকারি এসি ভলভো-র ভাড়া ৩২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৫১০ টাকা। ভাড়া পুনর্বিবেচনা না করলে যাত্রী সংখ্যা শূন্য হয়ে যেতে পারে, জানিয়ে রেখেছিলেন ওই বাসে নিয়মিত সফরকারী শহরবাসী। ব্যবসায়ী থেকে চাকুরিজীবী সকলেরই মত ছিল, ‘‘এত টাকা খরচ করে কলকাতা যেতে বড্ড গায়ে লাগছে।’’

Advertisement

গত বছর মে মাসে বোলপুরের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে জেলা সদর থেকে কলকাতাগামী এসি বাস চালানোর দাবি ওঠে। বাস চালানোর দাবি উঠেছিল, সিউড়ি ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকেও। মুখ্যমন্ত্রী তৎকালীন পরিবহণ সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিষয়টি দেখতে বলেন। তার পরেই সিউড়ি থেকে ভায়া ইলামবাজার ও বোলপুর দু’টি কলকাতাগামী বাসের পরিষেবা চালু হয়। প্রথমে দায়িত্ব পেয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণ সংস্থা। পরে অবশ্য তেমন ভাল বাস দিতে না পারায় এসবিএসটিসি-র থেকে পরিষেবা দেওয়ার দায়িত্ব নেয় ডব্লিউবিটিসি। জোড়া এসি বাস পেয়ে খুশি হয়েছিলেন যাত্রীরা। যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল পরিষেবা। সেই বাসগুলিতেই হঠাৎ ১৯০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন জেলা সদরের বাসিন্দারা। যাত্রী সংখ্যাও তলানিতে ঠেকেছিল। ৪২ আসনের বাসে সম্প্রতি ৬-১০টি আসন ভর্তি হচ্ছিল।

ভাড়া বাড়ার জন্য যাত্রী কমেছে তা মেনে নিলেও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ডব্লিউবিটিসি-র এর কর্তা। তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণ সংস্থা এসি (সাধারণ) বাসগুলি চালাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই হিসেবেই ভাড়া ছিল ৩২০ টাকা। ডব্লিউবিটিসি দায়িত্ব নেওয়ার পরে ভাড়া না বাড়িয়েই ভলভো বাস দেওয়া হয়। এখন রাজ্যজুড়ে ভলভো পরিষেবার ভাড়া নির্দিষ্ট হয়েছে। সেই মতো সিউড়ির দুটি গাড়িতে ভাড়া ঠিক হয়। কিন্তু, যাত্রী সংখ্যা কমতে থাকায় শেষ পর্যন্ত ভাড়া কমানোর রাস্তাতেই হাঁটল ডব্লিউবিটিসি।

সিউড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম, সম্পাদক কিসান পাল, ব্যবসায়ী গৌর পাল, মৃণাল দাসেরা বলছেন, ‘‘আগের ভলভো বাসগুলোই চলছে। কোনও বাসে বায়োটয়লেট নেই। শুধু স্টিকার সাঁটিয়ে এতখানি ভাড়া বাড়ানোয় আপত্তি ছিল। তবে ভাড়া যতটুকু কমানো হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। যাত্রী সংখ্যা খুব একটা বাড়বে বলে মনে হয় না।’’ ১৫ অগস্ট থেকে অনেক কম ভাড়ায় একটি বেসরকারি সংস্থা একই রুটে এসি ভলভো চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কারণ, ওই সংস্থা একই রুটে এসি ভলভো চালাতে ৩৮০ টাকা ভাড়া নির্ধারিত করছে। সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন সংস্থার অন্যতম কর্তা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন