—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
তিন দফায় পুরুলিয়ার নয় বিধানসভায় বাদ পড়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার ভোটার। সব বিধানসভাতেই গত ভোটে যে ব্যবধানে কোনও দল জিতেছিল, তার অনেক বেশিই ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। যদিও তাতে আমল দিতে নারাজ তৃণমূল। দলের জেলা নেতৃত্বের একাংশের দাবি, ভোটার বাদ যাওয়ার প্রভাব পড়বে না আগামী নির্বাচনে। পাল্টা, ‘ভুয়ো’ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ায় শাসক দল সমস্যায় পড়বে বলেই দাবি করছে পদ্ম শিবির।
ঘটনা হল, রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যে বুথভিত্তিক বাদ পড়া ভোটারদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে ব্যস্ত। যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের সমর্থন কোন পক্ষে ছিল, তা আঁচ করার চেষ্টা চলছে। তবে আপাত ভাবে কয়েকটি কেন্দ্রের যে তথ্য ধরা পড়ছে, তাতে আগামী ভোটে অঙ্ক বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের একাংশের মত, ভোট বাদ যাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে পুরুলিয়া আসনে। ওই কেন্দ্রে সর্বাধিক ২৬,৯৭১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। গত লোকসভার নিরিখে এই কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়েছিল ২২,৩৭৯ ভোটে। তার বেশি নাম বাদ পড়ার প্রভাব কেমন হয়, তা এখনও স্পষ্ট নয় কোনও শিবিরের কাছেই।
পুরুলিয়ার পরে সব চেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে পাড়া বিধানসভায়—২৪,১৫১ জন। গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি এই কেন্দ্রে জেতে চার হাজারের কিছু বেশি ভোটে। লোকসভার নিরিখেও তারা এগিয়ে আছে ৮,২৫০ ভোটে। তবে অনেকেরই মত, ভোটার বাদ যাওয়ার প্রভাবে ভুগতে পারে শাসক-বিরোধী, দু’পক্ষই। কাশীপুর, বাঘমুণ্ডি, জয়পুর-সহ জেলার বাকি আসনেও লক্ষণীয় ভোটার বাদ পড়ার প্রভাব পড়তে চলেছে ফলাফলে।
তবে শাসক দলের যুক্তি, সামগ্রিক বিচারে অনেক নাম বাদ গেলেও ‘বিবেচনাধীন’ থাকা ৩৩,৫৭৭ জন ভোটারের মাত্র ১৭ শতাংশই (৫,৯৪২) বাদ পড়েছেন। ভোটের ফলে তার বিশেষ প্রভাব পড়বে না। দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা বিএলএ ১ সুষেণ মাঝির দাবি, বিধানসভাভিত্তিক হিসাব বলছে, প্রায় সব বিধানসভাতেই খুব কম সংখ্যায় ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার বাদ পড়েছেন। জয়-পরাজয় নির্ধারণে তার ভূমিকা থাকবে না।
যদিও, জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কম ভোটে এসে ঠেকলে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্য়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। যেমন, বলরামপুর বিধানসভায় গত নির্বাচনে বিজেপি জিতেছিল মাত্র ৪২৩ ভোটে। লোকসভার নিরিখে সেখানে তৃণমূল এগিয়ে আছে ১,১৫০ ভোটে। সেখানে ওই কেন্দ্রে ১,০৩৭ জন ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। আবার, তৃণমূলের দখলে থাকা বান্দোয়ান, মানবাজার ও বাঘমুণ্ডি আসনের তুলনায় বিজেপির দখলে থাকা পুরুলিয়া, পাড়া, রঘুনাথপুর বা জয়পুরের মতো আসনে বেশি ‘বিবেচনাধীনের’ নাম বাদ পড়েছে।
সুষেণ বলেন, ”পুরুলিয়ায় মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যাই লক্ষাধিক। তবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। বরং আমাদেরই চেষ্টায় বিবেচনাধীন ভোটারদের নামের প্রায় সবটাই বাদ পড়া থেকে রক্ষা করা গিয়েছে।” তবে বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতোর দাবি, ”যে মৃত ও ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের ভোটেই তৃণমূল জিতে এসেছে। এ বারে তা আর হবে না। প্রতি কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের ব্যবধান বাড়বে।”
জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের সংগঠন পোক্ত থাকা বিধানসভাগুলিতে নজরে পড়ার মতো ‘বিবেচনাধীনের’ নাম বাদ যায়নি। তাই চিন্তার কিছু নেই। জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, ”তবে, যোগ্য কয়েক হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ল। তাঁরা তাঁদের সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক অধিকার হারালেন। এটা কেন হবে!”
এর পেছনে বিজেপিই মূলত দায়ী দাবি করে তিনি বলেন, ”সচেতন ভাবে হোক বা অজান্তে, বিজেপি নেতৃত্ব এসআইআর শুরুর সময়েই জানিয়েছিলেন, রাজ্যে এক কোটি ভোটারের নাম বাদ যাবে। কার্যক্ষেত্রে তা-ই হয়েছে। আমরা এটাইপ্রচারে আনছি।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে