WB Elections 2026

বিজেপির সাংগঠনিক খামতি কি মেটাবে আরএসএস

জঙ্গলমহলের বিজেপি নেতাদের একাংশ মানছেন, হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠনের প্রভাব এ বার তাদের পালে হাওয়া হাওয়া জোগাচ্ছে। আমল দিচ্ছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব।

সুরজিৎ সিংহ, রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৯
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে স্বয়ংসেবকদের জনসংযোগে সক্রিয়তা বৃদ্ধি কি জঙ্গলমহলে বিজেপির ভোটে ভরসা হয়ে উঠেছে? ভোটমুখী বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের বিভিন্ন গ্রামে ‘ঔঁ’ লেখা গেরুয়া পতাকার আধিক্য, বিভিন্ন জায়গায় রামনবমীর মিছিলের ভিড়ের বহরে এই চর্চা জল-হাওয়া পেয়েছে।

দলের নিচুতলায় সংগঠনের ফাঁকফোকর নিয়ে বার বার বিজেপির জেলা নেতারা রাজ্য নেতৃত্বের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিধানসভা ভোটের মুখেও বেশ কিছু বুথে তারা কমিটিও গড়তে পারেনি। অনেকের মতে, প্রচার পর্বের গোড়া থেকেই তৃণমূল ঝাঁপালেও বিজেপির প্রচারে সেই ঝাঁঝ ছিল না। তবুও ভোটের কথা উঠলেই চায়ের দোকান হোক বা গ্রামের আটচালা, কমবয়েসিরা অনেকেই উচ্চস্বরে ‘জয় শ্রীরাম’ বলছেন। যা গত কয়েক বছরে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারের স্লোগান হয়ে উঠেছে। তবে কি বিজেপির নিচুতলায় সংগঠনের খামতি মেটাচ্ছে আরএসএস?

যদিও আরএসএস-এর দাবি, তারা রাজনৈতিক দলের প্রচার করে না। তবে জঙ্গলমহলের বিজেপি নেতাদের একাংশ মানছেন, হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠনের প্রভাব এ বার তাদের পালে হাওয়া হাওয়া জোগাচ্ছে। আমল দিচ্ছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব।

তবে জঙ্গলমহলে দীর্ঘদিন ধরেই আরএসএস বিদ্যালয় খুলে, আদিবাসীদের মধ্যে নানা কৌশলে নিজেদের চিন্তাধারা ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষজনকেও নানা উপায়ে সঙ্ঘ টানার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ২০১৮-র পঞ্চায়েত ভোট, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে জঙ্গলমহলে বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে সঙ্ঘের প্রচারের প্রভাব ছিল। অভিযোগ, তারপরেই আরএসএস-নিয়ন্ত্রণে শাসকদলের কিছু নেতা সক্রিয় হন। জঙ্গলমহলের তৃণমূলের এক প্রাক্তন বিধায়ক ও তাঁর সঙ্গীরা আরএসএস-এর প্রচারক ও তাঁদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া সাধারণ লোকজনকে ‘চমকানো’ শুরু করেন। ২০২১-র বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের তিনটি কেন্দ্রই জেতে তৃণমূল। ২০২৪-র লোকসভাতেও বাঁকুড়া কেন্দ্র জেতে তৃণমূল।

তবে জঙ্গলমহলে গত কয়েক বছরে আরএসএস গোপনে তাদের প্রচার কর্মসূচিকে ছড়িয়ে দিতে এলাকা ভিত্তিক একাধিক ওয়টস্যাপ গ্রুপ তৈরি করে সরকারি কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বেকার যুবক থেকে নানা পেশার লোকজনকে জুড়েছে। সেখানে সঙ্ঘের ভাবাদর্শ ছাড়াও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপরে নির্যাতন থেকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার অশান্তির কথা বলা হচ্ছে। রাজ্যের বেকারত্বের সমস্যা, চাকরির নিয়োগে দুর্নীতির কথাও থাকছে। ওই মেসেজ তাঁরা নিজেদের অন্য গ্রুপেও শেয়ার করছেন। রাইপুরের এক শিক্ষক বলেন, ‘‘মেসেজগুলো সত্যিই নতুন করে ভাবাচ্ছে।’’

সিমলাপালের এক ব্যবসায়ী জানান, এলাকায় কারা আরএসএস-এর প্রচারক, তাঁদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখছেন, তৃণমূল নজর রাখছে। তাঁদের হয়ে এই কাজ করছেন পাড়ার লটারি বিক্রেতা বা চা-পান বিক্রেতা কিংবা সেলুনের দোকানি। শাসকদলের জঙ্গলমহলে এক প্রাক্তন বিধায়ক স্বীকার করেন, ‘‘আরএসএস লোকজনের মগজধোলাই করছে। তাই দলীয় ভাবে এবং পুলিশকে দিয়ে ওদের ঠান্ডা করার চেষ্টা করেছি।’’

আরএসএস-এর মধ্যবঙ্গ প্রান্ত সঙ্ঘচালক রবীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজ্যে এখন যে অন্ধকার দশা, তা মানুষকে ভাবাচ্ছে। তবে আমাদের প্রচারকেরা কখনও রাজনৈতিক কথা বলেন না। আমরা কেবল সঙ্ঘের ভাবনা প্রচার করি। তবুও আমাদের প্রচারকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে।’’ রাইপুরের বিজেপি প্রার্থী ক্ষেত্রমোহন হাঁসদাও বলেন, ‘‘আরএসএস ও বিজেপি এক নয়।’’ তবে মানছেন, এলাকায় আরএসএস হিন্দুত্ববাদের প্রচার করলে সে সুবিধা ভোটে তাঁরা ছাড়া আর কে পাবে? তৃণমূলের বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘এখানে আরএসএস-এর প্রভাব নেই। বিজেপি সুবিধা পাবে না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন