চোর সন্দেহে গণপিটুনি হাসপাতালে

ফের আইন হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি চলল রামপুরহাটে। এ বার ঘটনাস্থল রামপুরহাট হাসপাতাল চত্বর। সময় শুক্রবার সকাল পৌনে সাতটায় এই কাণ্ড ঘটে। এই নিয়ে চলতি বছরে রামপুরহাট এলাকায় মাস ছয়ের ব্যবধানে তিনটি গণপিটুনির ঘটনা ঘটল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:৫৪
Share:

এ ভাবেই হাত-পা বেঁধে মারধর চলে। রামপুরহাট হাসপাতাল চত্বরে শুক্রবারের নিজস্ব চিত্র।

ফের আইন হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি চলল রামপুরহাটে। এ বার ঘটনাস্থল রামপুরহাট হাসপাতাল চত্বর। সময় শুক্রবার সকাল পৌনে সাতটায় এই কাণ্ড ঘটে। এই নিয়ে চলতি বছরে রামপুরহাট এলাকায় মাস ছয়ের ব্যবধানে তিনটি গণপিটুনির ঘটনা ঘটল। রামপুরহাট মহকুমা এলাকা ধরলে সাতটি।

Advertisement

এর আগে কেবলমাত্র নলহাটি থানার পাইকপাড়া এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে গনপিটুনির ঘটনায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুড় ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে গনপিটুনিতে যুক্তকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে। বাকি ছ’টি ঘটনায় একটিতেও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেনি। গ্রেফতারও হয়নি।

শুক্রবার রামপুরহাট হাসপাতালের ঘটনাতেও পুলিশ এ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা শুরু করেনি। রামপুরহাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, কোনও পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেনি।

Advertisement

কী ঘটেছিল এ দিন? পুলিশ জানাচ্ছে, সকালে হাসপাতালে একজন পকেটমারি করে ২০০০ টাকা নিয়ে পালাতে গিয়ে জনগণের হাতে ধরা পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আটক ব্যক্তির নাম কালাম সেখ। তার বাড়ি নলহাটি থানার লোহাপুরে।

পুলিশ যা জানায়নি, তা স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। মুরারই থানার বর্ধনপাড়ার এক ব্যক্তি তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে যাওয়ার জন্য হাসপাতালের লিফটে চাপার সময় একজন তার জামার পকেট থেকে ২০০০ টাকা বের করে পালানোর চেষ্টা করেছিল।

Advertisement

স্থানীয় মানুষজন হাসপাতাল চত্বরে ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বেদম মারধর করে। গায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকাও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘণ্টা খানেক পরে এলাকায় পুলিশ এসে ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করে আবার থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে রাখে।

কিন্তু শহরেরই বাসিন্দাদের একাংশের মতে, গণপিটুনি অপরাধ দমনের কোনও রাস্তা নয়। তাতে যে দুষ্কৃতীদের ঠেকানো যায়, তেমনও প্রমাণিত হয়নি। তাহলে রামপুরহাট এলাকায় এই ধরনের চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বন্ধ হয়ে যেত। তাঁদের মতে, অপরাধী হাতেনাতে ধরা পড়লে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হোক। তারপর অভিযোগ জানালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাতে আইন

মাস ছয়ের ব্যবধানে তিনটি গণপিটুনির ঘটনা ঘটল এলাকায়। রামপুরহাট মহকুমা এলাকা ধরলে এই ধরণের ঘটনা সম্প্রতি সাতটি ঘটল। নলহাটি থানার পাইকপাড়ায় এমনই এক ঘটনায় পুলিশের উপর হামলায় শুধু মামলা হয়। বাকি ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে আইন হাতে তুলে নেওয়ায় কোনও মামলা হয়নি। গ্রেফতারও করা হয়নি কাউকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement